Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: গঙ্গার ভাঙন যেন ক্রমেই আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। মালদহ ডিভিশনের অন্তর্গত মালদহ ও বিহার সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীর জল ঢুকে রেলপথের আশপাশের জমি ও মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার কারণে ১ অক্টোবর আরও বেশি সংখ্যক ট্রেন বাতিল (Train Cancellation) করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। শুধু বাতিল নয়, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনের রুটও বদলে দেওয়া হয়েছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, গঙ্গার জলস্তর না কমা এবং রেললাইনের সংলগ্ন মাটি ফের শক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। ফলে পুজোর মরসুমে এই রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সমস্যাও বাড়তে পারে।
১ অক্টোবর বাতিল মোট ২২টি ট্রেন
১ অক্টোবর যাত্রার জন্য মোট ২২টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে ৬৩৪০১ সাহেবগঞ্জ–মালদা টাউন MEMU, ১৩৪০৯ মালদা টাউন–কিউল এক্সপ্রেস, ১৩৪২৭ হাওড়া–সাহেবগঞ্জ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ৬৩৪২১ আজিমগঞ্জ–সাহেবগঞ্জ MEMU, ৬৩৪১১ সাহেবগঞ্জ–ভাগলপুর MEMU এবং ৬৩০৬৩ বর্ধমান–সাহেবগঞ্জ MEMU।
এর পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৫৩৪১১ বারহরওয়া–সাহেবগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, ৬৩৪০৫ রামপুরহাট–সাহেবগঞ্জ MEMU, ৫৩৪৮১ ও ৫৩৪৮৩ তিনপাহাড়–রাজমহল প্যাসেঞ্জার, ১৩৪২৮ সাহেবগঞ্জ–হাওড়া এক্সপ্রেস এবং ১৩৪১০ কিউল–মালদা টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস।
বাতিলের তালিকায় রয়েছে ৬৩৪০২ মালদা টাউন–সাহেবগঞ্জ MEMU, ৬৩৪২২ সাহেবগঞ্জ–আজিমগঞ্জ MEMU, ৬৩৪১২ ভাগলপুর–সাহেবগঞ্জ MEMU, ৬৩০৬৪ সাহেবগঞ্জ–বর্ধমান MEMU, ৫৩৪১২ সাহেবগঞ্জ–বারহরওয়া প্যাসেঞ্জার, ৬৩০৭৪ সাহেবগঞ্জ–রামপুরহাট MEMU, ৫৩৪৮৬ ও ৫৩৪৮২ রাজমহল–তিনপাহাড় প্যাসেঞ্জার, ৬৩৪০৬ সাহেবগঞ্জ–রামপুরহাট MEMU এবং ৫৩৪০৮ জামালপুর–রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার।
কোন ট্রেনগুলি ঘুরপথে যাবে?
রেললাইন সংলগ্ন পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনকে বিকল্প রুটে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবর ১৩৪০৪ ভাগলপুর–রাঁচি বনাঞ্চল এক্সপ্রেস এবং ১৩০৭২ জামালপুর–হাওড়া এক্সপ্রেস ভাগলপুর–দুমকা–রামপুরহাট হয়ে চলবে।
অন্যদিকে ১৩০২৪ গয়া–হাওড়া এক্সপ্রেস এবং ০৩০৩০ নাটেশ্বর–হাওড়া স্পেশাল কিউল–ঝাঝা–আসানসোল রুট ব্যবহার করবে। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০৫০২ আনন্দ বিহার–আগরতলা তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস এবং ১৫৬৫৭ দিল্লি–কামাখ্যা ব্রহ্মপুত্র মেল জামালপুর–মুঙ্গের–কাটিহার হয়ে চালানো হয়েছে।
বদলে যাচ্ছে কয়েকটি ট্রেনের শুরুর স্টেশনও
রুট পরিবর্তনের পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত স্টেশনের পরিবর্তে অন্য জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করবে। ১ অক্টোবর ৫৩৪০৩ রামপুরহাট–গয়া প্যাসেঞ্জার রামপুরহাটের বদলে সাহেবগঞ্জ থেকে ছাড়বে। একই দিনে ৫৩০৩০ ভাগলপুর–আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ভাগলপুরের পরিবর্তে বারহরওয়া থেকে যাত্রা শুরু করবে।
যাত্রীদের বিকল্প পরিষেবা দিতে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় ভাগলপুর থেকে বিশেষ ‘ভাগলপুর–সাহেবগঞ্জ প্যাসেঞ্জার’ চালানো হয়েছিল। ট্রেনটি সাহেবগঞ্জ পৌঁছে ফের ভাগলপুরে ফিরে আসে।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গঙ্গার জল পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মাটির স্থায়িত্বের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। তাই আগামী কয়েকদিনও এই রুটে ট্রেন চলাচলে পরিবর্তন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


