নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এবার আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বুধবার INDIA ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক আগ্রহ। বৈঠকের মূল আলোচনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) সরানোর দাবি, সংসদীয় পথে অপসারণের প্রস্তাব এবং বিরোধীদের যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা, এমনটাই একাধিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।
বৈঠকের আগে থেকেই বিরোধী শিবিরের একাধিক দল জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি তুলেছে। কংগ্রেস, বাম দল-সহ একাধিক বিরোধী দল SIR তথা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, কমিশনের সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত এবং তিন কমিশনারের অনুমোদনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করেছে।
তিন দফা কৌশল—সংসদ, আইনি লড়াই, রাজপথ
সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত তিনটি দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- প্রথমত, জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) অপসারণের প্রস্তাব। সংসদে প্রস্তাব আনার জন্য বিরোধী সাংসদদের স্বাক্ষর সংগ্রহ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
- দ্বিতীয়ত, আইনি লড়াই। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, SIR এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আইনি পথে আন্দোলন কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
- তৃতীয়ত, যৌথ আন্দোলন। এতদিন বিভিন্ন দল আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচি করেছে। এবার সেই আন্দোলনকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
রামলীলা ময়দানে বড় জনসভা?
সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে দ্রুত একটি বড় জনসভা করার প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ, কলকাতা, মুম্বই, পটনা, হায়দরাবাদ-সহ একাধিক শহরে যৌথ কর্মসূচি বা র্যালি আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে রামলীলা ময়দান বা নির্দিষ্ট শহরগুলিতে এমন কর্মসূচি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়!এগুলি বৈঠকে আলোচ্য প্রস্তাব হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
একই ইস্যুতে এক মঞ্চে মমতা-রাহুল-বাম
বৈঠকটির রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির একই ইস্যুতে সমন্বয়ের সম্ভাবনা। পশ্চিমবঙ্গে পরস্পরের তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও বাম দলও জাতীয় স্তরে নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত এই ইস্যুতে একই মঞ্চে আসছে।
কংগ্রেসের তরফে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতির কথা রিপোর্টে এসেছে। তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, RJD-এর তেজস্বী যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা এবং শিবসেনা (UBT)-র উদ্ধব ঠাকরের মতো নেতাদের অংশগ্রহণ বা প্রতিনিধিত্ব নিয়েও বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রত্যেক নেতার শারীরিক উপস্থিতি নিয়ে রিপোর্টগুলিতে একরকম তথ্য নেই।
‘INDIA’ কি এবার একসঙ্গে রাজপথে?
বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত এটাই—এতদিনের বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি কি এবার পরিণত হবে একটি সমন্বিত দেশব্যাপী আন্দোলনে? CPI(ML)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই INDIA ব্লকের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যান্য বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আন্দোলনে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাম দলগুলিও দেশব্যাপী প্রতিবাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ফলে কনস্টিটিউশন ক্লাবের বৈঠক শুধু একটি রাজনৈতিক বৈঠক হয়ে থাকে, নাকি এখান থেকেই নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আরও বড় আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। সংসদে অপসারণের প্রস্তাব, আইনি লড়াই নাকি রামলীলা ময়দান থেকে রাজপথের আন্দোলন, কোন পথে এগোয় INDIA ব্লক, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


