Aaj India Desk, কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Corruption) মামলায় সিবিআই (CBI)-এর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ভেঙে দেওয়ার আবেদন ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠল। তদন্ত বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, এখনও পর্যন্ত তদন্তে কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং আগামী দিনে তদন্ত কোন পথে এগোবে—CBI-এর কাছে তা জানতে চান বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
তবে এই মামলাটি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় CBI-এর SIT ভেঙে দেওয়ার আবেদনটি আর শুনানির তালিকায় রাখেনি কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিচারপতি জানান, SIT নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে চাইলে CBI সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে।
শুনানিতে CBI-এর হয়ে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই তদন্ত চলছে। এর মধ্যে তদন্তকারী দলের বেশ কয়েকজন আধিকারিক অবসর নিয়েছেন। আরও কয়েকজনের অবসর নেওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। তাই তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেই SIT ভেঙে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এরপরই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি জানতে চান, এতদিনের তদন্তে কী উঠে এসেছে, বর্তমানে তদন্ত ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দিনে এই তদন্ত কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
CBI-এর আবেদনের বিরোধিতা করেন মূল মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, SIT ভেঙে দেওয়ার আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এক মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিমও এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর প্রশ্ন, SIT ভেঙে দেওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সঙ্গে তার কোনও সংঘাত হবে কি না। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, তদন্তই যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে SIT গঠন করা হয়েছিল কেন?
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, যখন সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে, তখন হাইকোর্টের পক্ষ থেকে আর কী পদক্ষেপ করা সম্ভব? অন্যদিকে, CBI-এর বক্তব্য, তারা সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলার পক্ষ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চলার কারণে তদন্তকারী দলের একাধিক আধিকারিক অবসর নিয়েছেন। সেই কারণেই SIT পুনর্গঠন বা ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় SIT ভেঙে দেওয়ার CBI-এর আবেদনটি হাইকোর্টের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। SIT নিয়ে পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ করতে হলে CBI-কে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পথই দেখাল কলকাতা হাইকোর্ট।


