34.8 C
Kolkata
Tuesday, September 29, 2026
spot_img

মসজিদের আড়ালে নাশকতার ছক? বাংলাদেশী জঙ্গিদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার ইমাম!

পূর্ব বর্ধমান: মসজিদের ইমামকে ঘিরে হঠাৎই তীব্র চাঞ্চল্য মঙ্গলকোটে। বাংলাদেশের একটি জঙ্গি সংগঠনের (Bangladeshi Terror Group) সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের অভিযোগে পিয়ার মহম্মদ শেখ নামে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে NIA। তাঁর সঙ্গে আর কারা যুক্ত? বাংলাদেশে যাতায়াতের নেপথ্যে কী ছিল? কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কি তৈরি হচ্ছিল? এই একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত আরও গভীর করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

জানা গিয়েছে, পিয়ার মহম্মদ শেখের বাড়ি মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোট থানার পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে NIA-এর চার সদস্যের একটি দল পৌঁছয় পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে। সেখান থেকেই পিয়ার মহম্মদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর মসজিদের যে ঘরে তিনি থাকতেন, সেখানে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

তদন্তকারীদের হাতে আসে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন। সূত্রের দাবি, ওই ডায়েরিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী, কার সঙ্গে কী ধরনের কথাবার্তা হত এবং এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্কের (Bangladeshi Terror Group) যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মসজিদ থেকে পিয়ার মহম্মদ শেখকে নিয়ে যাওয়া হয় মঙ্গলকোট থানায়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

বাংলাদেশে যাতায়াত—কেন উঠছে প্রশ্ন?

স্থানীয়দের দাবি, পিয়ার মহম্মদ শেখের বাংলাদেশে যাতায়াত ছিল। মসজিদ কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তাফা এবং স্থানীয় বাসিন্দা মনি কাজির বক্তব্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে প্রায় ছয় মাস বাংলাদেশে ছিলেন ওই ইমাম। কয়েক মাস আগে তিনি ফের পালিশগ্রামে ফিরে আসেন।

তবে তাঁর এই যাতায়াতের কারণ কী ছিল, বাংলাদেশে কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং সেই যোগাযোগের সঙ্গে বর্তমান মামলার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এখনও তদন্তের বিষয়।

তদন্তকারীদের সামনে বড় প্রশ্ন

পিয়ার মহম্মদ শেখের মোবাইল ও ডায়েরি থেকে কি মিলবে আরও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র? বাংলাদেশি নম্বরগুলির মালিক কারা? মঙ্গলকোট বা আশপাশের এলাকায় তাঁর সঙ্গে আরও কেউ যোগাযোগ রাখতেন কি না? আর যদি যোগাযোগ থেকেই থাকে, তার উদ্দেশ্যই বা কী?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।ইমাম গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কার্যত স্তম্ভিত পালিশগ্রামের বাসিন্দারা। তিন বছর ধরে মসজিদে ইমামের দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপে, ডায়েরি ও মোবাইল থেকে কি খুলবে আরও কোনও ‘যোগসূত্র’-এর রহস্য?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন