Aaj India Desk, কলকাতা : মমতার আমলে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন (Student Union Election) বন্ধ ছিল। তবে সরকার বদল হওয়ার পর এবার সেই নির্বাচন পুনরায় শুরু হবে কি না, তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। এবার সেই জল্পনার মধ্যেই বড় ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, চলতি শিক্ষাবর্ষে ৪ লক্ষাধিক নতুন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন। তারা নিয়মিত ক্লাসে আসা শুরু করলেই ছাত্রভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবা হবে। সোমবার বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই বার্তা দেন তিনি।
কবে হবে ছাত্রভোট ?
ছাত্রভোট (Student Union Election) নিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে আপাতত কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। তবে কলেজ ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ ও নিয়মিত উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে নিয়মিত ক্লাস হলেই দ্রুত ছাত্র ভোটের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, “কোভিড পরবর্তী সময়ে কলেজে শিক্ষকদের ও ক্লাসে পড়ুয়াদের ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ছাত্ররাই তো ভোট দেবে সংসদ নির্বাচনে। তাই আগে ওরা নিয়মিত ক্লাস করুক, পড়াশোনা করুক। তারপরই ছাত্রভোটের কথা ভাবা হবে।”
এর আগে জুলাই মাসেও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সরকারি ও সরকারি পোষিত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার এবং ক্যাম্পাসে পড়ুয়া ফিরলেই ছাত্রভোটের প্রসঙ্গ আসবে।
বহু বছর ধরে বন্ধ ছাত্র সংসদ নির্বাচন
পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত হচ্ছে না। নতুন সরকারের আমলে সেই নির্বাচন ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। আগস্ট মাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে সরকারের বর্তমান বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রভোটের আগে কলেজে নিয়মিত ক্লাস এবং পড়ুয়াদের উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সমাবর্তন নিয়েও বড় বার্তা
এদিন শুধু ছাত্রভোট নয়, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমাবর্তন নিয়েও বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ। তাঁর দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবার ও বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন হয়েছে। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও আচার্য তথা রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাবর্তনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রায় ছ’বছরের অপেক্ষার পর সোমবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সফল এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপকদের হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের কৃতী র্যাঙ্ক হোল্ডারদেরও শংসাপত্র ও পদক দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন নজর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিকেও। ৪ লক্ষাধিক পড়ুয়া নিয়মিত ক্লাসে ফিরলে সত্যিই কি শুরু হবে ছাত্রভোটের প্রক্রিয়া? উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।


