কলকাতা: লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ার প্রতিষ্ঠান, অথচ রবিবার সন্ধ্যা থেকে যেন অন্য ছবির চিত্রনাট্য! দফায় দফায় উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা ধরে চলা উত্তেজনার ঘটনায় পঞ্চসায়র থানায় দায়ের হয়েছে তিনটি পৃথক FIR। একটি অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির, একটি পড়ুয়াদের একাংশের এবং তৃতীয়টি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। এখনও পর্যন্ত অবশ্য কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
ঘটনার পরেই শুরু অন্য ‘শো’—রাজনৈতিক তরজা!
বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্যে সরাসরি উঠে এসেছে ‘অরাজকতা’, ‘অতিবাম মানসিকতা’ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, একটি অরাজনৈতিক বিষয়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উত্তপ্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অপরাধমূলক বিষয় জড়িত। এমনকি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পাল্টা সুর আরও চড়া বাম শিবিরে। SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, SRFTI-তে যা ঘটছে, তা গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয়। বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর আবার সরাসরি BJP-কে নিশানা করে SRFTI-তে ‘তাণ্ডব’-এর অভিযোগ তুলেছেন এবং আক্রান্ত পড়ুয়াদের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন।
তারপর CPIM নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য। আর তাঁর বক্তব্যে ঢুকে পড়ল সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা! ‘দেবী’, ‘কাপুরুষ-মহাপুরুষ’, ‘গণশত্রু’, সত্যজিৎ রায়ের একাধিক ছবির উল্লেখ করে বিকাশের দাবি, এই ছবিগুলির মাধ্যমে পরিচালক RSS মতাদর্শের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিতে তৈরি এই প্রতিষ্ঠানেই RSS-প্রাণিত লোকজনের হাতে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মুক্ত চিন্তার শিক্ষাঙ্গন (SRFTI) রক্ষায় ‘রুখে দাঁড়ানোর’ ডাকও দিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, একদিকে ‘অরাজকতা’ ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের বার্তা, অন্যদিকে ‘RSS তাণ্ডব’ ও মুক্ত চিন্তার শিক্ষাঙ্গন রক্ষার অভিযোগ, SRFTI-র ক্যাম্পাসের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক ময়দানেও।
তিন FIR-এর পর তদন্ত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার। তবে আপাতত SRFTI-তে লাইট-ক্যামেরার বদলে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের হাই-ভোল্টেজ ‘অ্যাকশন’!


