Aaj India Desk, অযোধ্যা: অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ram Mondir) ভক্তদের দেওয়া দান ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একবার বা দু’বার নয়, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এখনও পর্যন্ত মোট ১০৫টি চুরির ঘটনা চিহ্নিত করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সিটের তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরই এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
মামলার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সিটের রিপোর্টের বিভিন্ন তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাম মন্দিরে দান চুরির তদন্ত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে আইন মেনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সিটের জমা দেওয়া রিপোর্টে সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দিরে আসা মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব যাতে ডিজিটালভাবে বদলানো না যায়, তার জন্য বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে রসিদ তৈরি করা হত। এরপর সেই মূল্যবান সামগ্রী রাখা হত স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার লকারে। কিন্তু তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করতেই একের পর এক চুরির ঘটনা সামনে আসে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন করা হয়। ট্রাস্টের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে একজন সিইও-র নেতৃত্বে কাজ শুরু করা হয়। প্রাক্তন সামরিক আধিকারিক জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের নতুন সিইও করা হয়।
জানা গিয়েছে, ট্রাস্টের আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্তের নেতৃত্বে তিন সদস্যের সিট গঠন করে। ২৩ জুন সিট তাদের প্রাথমিক সুপারিশ জমা দেওয়ার পর তদন্ত আরও গতি পায়।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত এফআইআরে নাম থাকা আটজন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র এবং মণীশ কুমার যাদব-সহ আরও কয়েকজন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুনানির সময় আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে সিটের তদন্ত রিপোর্টের একটি কপি চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, তারা মামলাটি সেশন কোর্টের কাছ থেকে নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে চাইছে না। সিটের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত তদন্ত সংক্রান্ত তথ্যগুলি নথিভুক্ত করেছে।


