Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে (Nandigram Congress Candidate) গ্রেফতার ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মিলন প্রধানকে (Milon Pradhan) প্রার্থীপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য পুলিশ চাপ দিয়েছিল বলে দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য (Subhasis Bhattacharya)। তাঁর অভিযোগ, শুধু মিলন প্রধানই নন, ঘটনার দিন তাঁকেও পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। যদিও কংগ্রেসের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি (BJP)।
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার চারটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। শুক্রবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি, প্রায় ১৯ বছর ধরে ওই মামলাগুলিতে পলাতক ছিলেন মিলন প্রধান। তবে উপনির্বাচনের মাত্র ১৮ দিন আগে তাঁর গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঘটনার দিন দলীয় কর্মসূচি সেরে চণ্ডীপুরের ওই হোটেলেই মিলন প্রধানের সঙ্গে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, আচমকাই হোটেলের ঘরে মিলনের চিৎকার শুনতে পান তিনি। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, কয়েকজন তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গেও তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। শুভাশিসের অভিযোগ, তিনি মিলনকে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার পর পুলিশ তাঁকেও আটক করে। তাঁর দাবি, পরে দু’জনকে আলাদা গাড়িতে তোলা হয় এবং তাঁদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
এরপরই তাঁকে মিলন প্রধানকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিতে বোঝানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শুভাশিসের। তিনি দাবি করেন, সেই প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মিলনকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের কথা তিনি বলতে পারবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মিলন প্রধানের গ্রেফতারির পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর অভিযোগ, এই গ্রেফতার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ এবং অবাধ ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। যদিও বিজেপির তরফে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, মিলন প্রধান ২০০৭ সালের একটি খুনের মামলার অভিযুক্ত। বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একজনকে কীভাবে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনা চলছে। শুভাশিস ভট্টাচার্যের দাবি, তৃণমূলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কংগ্রেসকে সমর্থন করা ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে আর কোনও বিকল্প ছিল না।
সব মিলিয়ে, ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি, পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্যে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের উত্তাপ আরও বাড়ল।


