Aaj India Desk, কলকাতা: রবিবার মানেই গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট (Galiff Street Market)। উত্তর কলকাতার (North Kolkata) এই হাটে প্রতি সপ্তাহে ভিড় করেন বহু মানুষ। গাছ, ফুল, মাছ থেকে শুরু করে নানা ধরনের পাখি ও পোষ্য—সবই মিলত এখানে। তবে এবার সেই হাটেই পড়ল প্রশাসনের কোপ।
কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) নির্দেশের পর রবিবার পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ করে দেওয়া হল গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সেখানে ব্যবসা করা অধিকাংশ বিক্রেতার কাছেই বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নেই। সেই কারণেই আপাতত হাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতি রবিবার গ্যালিফ স্ট্রিটে পশু-পাখি, মাছ, গাছ ও ফুলের কেনাবেচা হয়। এই হাটে বেআইনি ভাবে সংরক্ষিত বা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী, পাখি, প্রজাপতি এবং গাছ বিক্রির অভিযোগও উঠেছিল। সেই বিষয়টি সামনে আসার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট এ নিয়ে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বৈধ নথি ছাড়া এই ধরনের প্রাণী, পাখি বা গাছ বিক্রি করা যাবে না।
এরপর শ্যামপুকুর থানার তরফে হাট ব্যবসায়ীদের একটি নোটিস দেওয়া হয়। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়, কলকাতা পুরসভা থেকে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে হাটে বসে ব্যবসা করা যাবে না।
হাটের ব্যবসায়ী সংগঠনের লিগাল অ্যাডভাইজার রাজেন্দ্র প্রসাদ রায় চৌধুরীর দাবি, হাটের সদস্য না হয়েও অনেকেই সেখানে এসে মাছ, গাছ-সহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, কিছু মাছ, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অনুমতি ছাড়া আনা গাছও আটক করা হয়েছে। সেগুলি কাস্টমসের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এরপর রবিবার হাটে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের ডিডি-সহ পুলিশ বাহিনী। পুলিশের তরফে গোটা হাটের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, বৈধ ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় আপাতত কাউকেই সেখানে বসতে দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, একসময় হাতিবাগান বাজারের কাছে মূল রাস্তার দু’পাশে বসত এই হাট। বাম আমলে সেখান থেকে হাটটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সরকারি উদ্যোগে গ্যালিফ স্ট্রিটে সারি সারি গুমটি তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই দোকানগুলিতে না বসে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাতেই হাটের বেচাকেনা চলছিল। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ অক্টোবর। ফলে তার আগে গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট আদৌ ফের বসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


