Aaj India Desk, কলকাতা: এক রাতের ব্যবধানেই বদলে গেল ভোটের ময়দানের ছবি। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং বহুদিনের পরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর উপনির্বাচনের মুখে নতুন ব্যবস্থা করল নির্বাচন কমিশন। দুই বিবদমান গোষ্ঠীর প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী লড়াই থেকে বাদ না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
কমিশনের শুক্রবারের নির্দেশে অরূপ রায় (Aroop Roy)-এর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর নতুন পরিচয় হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। এই শিবিরের প্রতীক ‘খাম’ (Envelope)। অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নির্বাচনে অংশ নেবে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। এই দলের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ (Football Player) প্রতীক।
পুরনো নাম-প্রতীক ব্যবহারে বাধা কেন?
দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। তার মধ্যেই সামনে এসে গিয়েছে উপনির্বাচন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন পুরনো নাম এবং জোড়াফুল ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়ায় ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের নিয়ে তৈরি হয় আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা। সেই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করে আপাতত এই ব্যবস্থা নেয় কমিশন।
অর্থাৎ, আগে যে প্রার্থীরা স্থগিত দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল না করে নতুন বরাদ্দ করা নাম ও প্রতীকের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি মেঘালয় এবং ত্রিপুরাতেও আপাতত দুই গোষ্ঠীকে সংশ্লিষ্ট নতুন পরিচয়ে নিবন্ধিত ও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নন্দীগ্রাম থেকে রেজিনগর, বদল ভোটের অঙ্কেও
কমিশনের নির্দেশের প্রভাব সরাসরি পড়েছে আসন্ন উপনির্বাচনের প্রার্থীদের উপর। রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে অরূপ রায়-অনুমোদিত সফিউজ্জামান শেখ এবার ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের খাম প্রতীকে লড়বেন। মমতা শিবিরের রবিউল আলম চৌধুরীর প্রতীক হবে ফুটবল খেলোয়াড়।
নন্দীগ্রামে অরূপ শিবিরের এহতেশামুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন খাম প্রতীকে। মমতা শিবিরের সঞ্চিতা প্রধান (দে)-র প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। অসমের ৯-নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনে মমতা-অনুমোদিত আব্দুল সালামও লড়বেন ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী মনোনয়ন পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ফলে আপাতত জোড়াফুলের জায়গায় উপনির্বাচনের ময়দানে মুখোমুখি হচ্ছে দুই নতুন পরিচয় ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ বনাম ‘খাম’।


