Aaj India Desk, কলকাতা : অ্যাটেনডেন্স নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার গড়ালো আরও গুরুতর অভিযোগে। সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের (Surendranath Law College) ভাইস প্রিন্সিপালকে ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার কলেজের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, টিএমসিপির সঙ্গে যুক্ত কিছু সিনিয়র নেতা ও নির্দিষ্ট মহলের তরফে ছাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় মেসেজ পাঠানো, ক্যাম্পাসের বাইরে দেখা করার প্রস্তাব এবং ‘কম্প্রোমাইজ’-এর চাপ দেওয়া হত। প্রতিবাদ করলেই অ্যাটেনডেন্স কেটে দেওয়া বা কলেজে টিকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। কলেজের চড়া ফি, বেহাল পরিকাঠামো এবং সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার নিয়েও এবার উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
‘প্রতিবাদ করলেই হুমকি’
সংবাদমাধ্যমের সামনে দুই ছাত্রী দাবি করেন, কলেজের নির্দিষ্ট কিছু মহলের তরফে তাঁদের অপ্রয়োজনীয় মেসেজ পাঠানো হত। ক্যাম্পাসের বাইরে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি ‘কম্প্রোমাইজ’ করার চাপও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁদের।ছাত্রীদের বক্তব্য, এই ধরনের প্রস্তাবের প্রতিবাদ করলে অ্যাটেনডেন্স কেটে দেওয়া কিংবা কলেজে টিকতে না দেওয়ার মতো হুমকির মুখে পড়তে হত। (Surendranath Law College)
অন্য কলেজের তুলনায় বেশি ফি
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, অন্যান্য সরকারি কলেজের তুলনায় সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে তাঁদের পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি। তাঁদের দাবি, কোর্স ফি বাবদ প্রায় ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই অনুপাতে পরিষেবা এবং পরিকাঠামো নেই বলেই অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের। তাঁদের দাবি, কলেজে উপযুক্ত ক্যান্টিন নেই। একাধিক ক্লাসরুমের ফ্যান বিকল হয়ে পড়ে থাকে। এমনকি শৌচাগারের দরজাতেও অনেক ক্ষেত্রে ছিটকানি নেই বলে অভিযোগ। (Surendranath Law College)
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, প্রতি বছর পরিকাঠামোর উন্নয়নের নামে যে অর্থ নেওয়া হচ্ছে, তার সঠিক ব্যবহার কোথায় হচ্ছে? তাঁদের অভিযোগ, এই বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তাঁরা পাননি। অর্থের ব্যবহার নিয়ে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও কোনও নথি বা স্বাধীন তদন্তের ফল সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুমকে রাতে ঘেরাও, জোর করে পদত্যাগপত্রে সই এবং নির্যাতনের অভিযোগ খারিজ করেছেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, তরন্নুম স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে সই করেছেন এবং রাতে তাঁকে খাবার ও ঠান্ডা জল দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তরন্নুম দাবি করেছিলেন, বহিরাগত ও রাজনৈতিক মহলের প্ররোচনায় আন্দোলন হচ্ছে এবং বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ অ্যাটেনডেন্স বাধ্যতামূলক। ৯১৮ জন পড়ুয়ার মধ্যে প্রায় ৭০০ জনের উপস্থিতিতে ঘাটতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে অ্যাটেনডেন্স, ঘেরাও ও পদত্যাগ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই নতুন অভিযোগে জটিলতা আরও বেড়েছে।


