বীরভূম: কৌশিকী অমাবস্যায় ভক্তের ঢল সামলানোর পর আজ রাতেই গর্ভগৃহ ছাড়ছেন মা তারা (Tarapith)। প্রায় এক মাসের জন্য বদলাবে দেবীর ঠিকানা। কিন্তু পুজো-দর্শন বন্ধ হবে কি? এই প্রশ্নেই উদ্বেগে ছিলেন বহু ভক্ত। মন্দির কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, পুজো বন্ধ হচ্ছে না।
দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে এসেছিলেন কৌশিকী অমাবস্যায় মা তারার দর্শনে (Tarapith)। সেই পর্ব মিটতেই এবার শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত মন্দির সংস্কারের কাজ। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সংস্কার। তার আগেই আজ, ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার পর গর্ভগৃহ থেকে মা তারার বিগ্রহকে মন্দির চত্বরের শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে।
সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অধিষ্ঠান করবেন মা তারা। তবে ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর, শিবমন্দির থেকেই নিয়ম মেনে পুজো, আরতি, ভোগ নিবেদন এবং দর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। যদিও শিবমন্দিরে একটি মাত্র গেট থাকায় আগামী কয়েকদিন ভক্তদের পুজো দিতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
প্রায় ২৫ দিন ধরে চলবে সংস্কারের কাজ। মন্দিরের ভিতরের পাশাপাশি বাইরের অংশেও হবে প্রয়োজনীয় সংস্কার। নতুন করে রং করা হবে, বসানো হবে নতুন টাইলস, সংস্কার করা হবে টেরাকোটার কাজও। বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা মেনেই চলবে গোটা কাজ।
আর শুধু মন্দিরের সৌন্দর্য নয়, ভক্তদের মা তারার দর্শন আরও সহজ করাই থাকছে সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য। মন্দির কমিটির দাবি, বর্তমানে নাটমন্দির (Tarapith) থেকে দেবীকে দর্শন করতে গিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়েন ভক্তরা। তাই মন্দিরের সামনের দরজা প্রায় এক ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাটমন্দির থেকে যাতে মা তারাকে আরও পরিষ্কার দেখা যায়, তার জন্য মূল বেদি প্রায় আট ইঞ্চি উঁচু করা হবে।
অর্থাৎ, বদলাবে মন্দিরের চেহারা, বদলাবে দর্শনের ব্যবস্থাও! কিন্তু ভক্তি আর বিশ্বাসে কোনও বদল নয়।মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মহালয়ার আগের রাতে ফের মূল মন্দিরে ফিরবেন মা তারা (Tarapith)। তারপর থেকেই পুরনো নিয়ম মেনে আবার শুরু হবে পুজো। অর্থাৎ, সাময়িকভাবে শিবমন্দিরে অধিষ্ঠান করলেও মহালয়ার আগের রাতেই ফিরবেন দেবী তাঁর চেনা গর্ভগৃহে।
প্রসঙ্গত, পালাবদলের বাংলায় তারাপীঠ (Tarapith) মন্দিরের প্রশাসনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ১৫ বছরের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সময়ই জানানো হয়েছিল, কৌশিকী অমাবস্যা শেষ হলেই শুরু হবে মন্দির সংস্কার। এক মাসের জন্য মায়ের ‘ঠিকানা’ বদল, মন্দিরে নতুন সাজ, তারপর মহালয়ার আবহে ফের পুরনো গর্ভগৃহে মা তারা। ভক্তদের অপেক্ষা এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।


