Aaj India Desk, কলকাতা: পুজোর মুখে রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় দলবদলের জল্পনা। এনসিপিআই (NCPI)-এর ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই বিজেপিতে (BJP) যোগ দিতে পারেন—এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া (Jagadish Basunia)। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোর আগে অথবা পুজোর পরেই এই দলবদল হতে পারে।
বসুনিয়ার বক্তব্য, দলত্যাগবিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতেই তাঁদের এনসিপিআই-তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন একসঙ্গে দল বদল করলে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ তাঁদের সঙ্গে থাকবেন। ফলে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
তবে এই ১৭ জনের সঙ্গে দলের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ—আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান—সরাসরি বিজেপিতে যাবেন না বলেই জানিয়েছেন বসুনিয়া। তাঁর দাবি, ওই তিন সাংসদের কেন্দ্র সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমস্যা হতে পারে। তবে তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গে থেকেই কাজ করবেন এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন দায়িত্বও পেতে পারেন।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই দাবি মানা হয়নি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, বিজেপিতে এমন কোনও ঘটনা ঘটছে বলে তাঁর জানা নেই। এনসিপিআই-এর কোনও সাংসদ যদি এমন মন্তব্য করে থাকেন, তার দায় তাঁকেই নিতে হবে, বিজেপিকে নয়।
এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে এই ২০ জন সাংসদকে নিয়ে লোকসভাতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সংসদীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনে আরও তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতর।
খাতায়-কলমে এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই তাঁদের নাম রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে তাঁরা এনসিপিআই-এর হয়ে কাজ করছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র বিভিন্ন বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে গিয়েও তাঁদের বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাংসদদের পদ খারিজের দাবিতে স্পিকারের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার মধ্যেই জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার ১৭ সাংসদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তাল রাজনৈতিক মহল।


