33 C
Kolkata
Monday, September 14, 2026
spot_img

ভর্তি থেকে আর্থিক অনিয়ম – কী চলছে কলেজে? সুরেন্দ্রনাথ ল-তে পড়ুয়াদের পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক

Aaj India Desk, কলকাতা: সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের (Surendranath Law College) সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করলেন পড়ুয়ারা (Studends)। কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পড়ুয়াদের দাবি, তাঁরা কখনও ভিপির পদত্যাগ (VP Resign) দাবি করেননি। এই সংক্রান্ত যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। তাঁদের দাবি, ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগের পাশাপাশি কলেজে একজন স্থায়ী প্রিন্সিপাল নিয়োগ করতে হবে। এর পাশাপাশি কলেজে আর্থিক অনিয়ম, খারাপ পরিকাঠামো এবং বেআইনি ভর্তির মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছেন পড়ুয়ারা।

ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজের ওয়েবসাইটে যে পরিমাণ ফি দেখানো হয়, বাস্তবে তার থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোর্স ফি হিসেবে ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সেই অনুযায়ী পরিষেবা মিলছে না বলেই অভিযোগ তাঁদের। ২০২৩ সালের পর থেকে কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সোশ্যাল হয়নি। কিন্তু তারপরও প্রতি বছর পড়ুয়াদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং অন্যান্য খরচের নামেও ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু কলেজের শৌচাগারের দরজায় ঠিকমতো ছিটকানি পর্যন্ত নেই। এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পড়ুয়ারা।

ভর্তি নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পড়ুয়াদের দাবি, ২০২১ সালে র‍্যাঙ্ক জাম্প করে বেআইনিভাবে ভর্তি করানো হয়েছিল। ২০২৩ সালে সিট বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলাও হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। শুধু তাই নয়, রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকা সত্ত্বেও ২০২৩ সালে প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

অ্যাটেনডেন্স বা হাজিরা নিয়েও কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মানতে নারাজ পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, সকাল ৬টা ১৫ থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ক্লাস শুরু করার কথা থাকলেও অনেক সময় শিক্ষকরা সময়মতো আসেন না। এমনকী নির্দিষ্ট সময়ে কলেজের গেটও বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ। অথচ বার কাউন্সিলের নিয়ম দেখিয়ে পড়ুয়াদের হাজিরা কম থাকার কথা বলা হচ্ছে এবং সেই কারণ দেখিয়ে পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই রাতভর ঘেরাও আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পড়ুয়ারা। কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগপত্র নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটিও ঠিক নয় বলে তাঁদের বক্তব্য। পড়ুয়াদের দাবি, সাদা কাগজে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং ভাইস প্রিন্সিপাল নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগপত্রে সই করেছেন। পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও তাঁদের নিরাপত্তার জন্য কলেজ প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমান কলেজ প্রশাসনের পদত্যাগ এবং দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ প্রিন্সিপাল নিয়োগের দাবি তুলেছেন পড়ুয়ারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ভাইস প্রিন্সিপাল দাবি করেছিলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। আন্দোলনকারীরা জোর করে তাঁর সই করিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রায় ৭০০ জন পড়ুয়ার হাজিরা কম থাকায় পরীক্ষা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন