কলকাতা: ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই বাংলার পাতে রাজনীতির ঝাল-মশলা! দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে নতুন জামা, ঠাকুর দেখা আর মাছ-মাংসের জমজমাট ভোজ! কিন্তু এবার সেই পুজোর পাতে আমিষ থাকবে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
বাংলায় এসে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে স্বঘোষিত বাগেশ্বর ‘বাবা’র (Bageshwar Baba) নিদান, দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালি হিন্দুদের আমিষ খাওয়া উচিত নয়। এমনকী তাঁর মন্তব্য, প্যান্ডেলের পিছনে গিয়ে যাঁরা ‘নোংরা নোংরা’ আমিষ খাবার খান, তাঁরা ‘পাষণ্ড’!
ব্যস! তারপরেই বাঙালির পাতে যেন পড়ল বিতর্কের ঝাল! সাধারণ মানুষের একাংশের প্রবল আপত্তি। তাঁর বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় অভিযোগও করেছে কংগ্রেস। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, মানুষ কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতায় কি এভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়?
আরও প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। যখন এই মন্তব্য করা হয়েছিল, তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক নেতা। তাহলে তাঁরা তখন প্রতিবাদ করলেন না কেন? এরই মধ্যে বিধানসভায় মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
তাঁর বক্তব্য, লিলুয়ায় আসা ওই সন্ত দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, অখণ্ড ভারত এবং নিজের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির কথা বলেছেন। কে গ্রহণ করবেন আর কে করবেন না, সেটা মানুষের নিজের সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, ওই মত কারও উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
কিন্তু ভবানীপুর থানার সামনে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর (Bageshwar Baba) ছবি পোড়ানোর ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ শুভেন্দু। কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ একদিকে ‘আমিষ খাবেন না’ নিদান, অন্যদিকে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে পাল্টা রাজনৈতিক তরজা! আর মজার বিষয় হল, বাংলায় বিজেপি সরকারের আমন্ত্রণে এসেই এমন মন্তব্য করলেন বাগেশ্বর বাবা। তৃণমূল জমানায় যাঁকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়, সেই তাঁকেই এবার সাড়ম্বরে স্বাগত জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলার বিজেপিরই একাধিক নেতা, দিলীপ ঘোষ, সজল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করেছেন, বাইরে থেকে কোনও সন্ত কী বললেন, তাতে বাংলার চিরাচরিত পুজোর রীতি বদলাবে না। এমনকী রামকৃষ্ণ মিশনের সাধুরাও বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) এই নিদানকে মান্যতা দেননি।


