Aaj India Desk, কলকাতা : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক অশান্তির আবহে ফের সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র শেষে সভা থেকে রাজনৈতিক বিরোধীদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের একাংশকেও নিশানা করেন তিনি। গেরুয়া পতাকা ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি যাদবপুরে ‘দেশবিরোধী সংস্কৃতি’ এবং ‘হুমকির পরিবেশ’ বদলের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘পাঁচ বার ভাবুন’, কড়া হুঁশিয়ারি
একটি সংবাদপত্রের শিরোনামে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “গেরুয়া নিয়ে কোনও কুকথা বলার বা লেখার আগে অন্তত পাঁচ বার ভাবুন। এই বাংলা গেরুয়ার অপমান মেনে নেবে না।” এর পরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে ওঠা কাশ্মীরের স্বাধীনতা, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ এবং কিষাণজিকে ‘লাল সেলাম’-এর মতো স্লোগানের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ক্যাম্পাসে একটি ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল গ্যাং’ সক্রিয় রয়েছে।
ক্যাম্পাসে গীতা পাঠের ঘোষণা
যাদবপুরে ভবিষ্যতে তিন দিন ধরে গীতা পাঠ ও হনুমান চালিশা পাঠের কর্মসূচি করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আধ্যাত্মিকতা ও জাতীয়তাবোধের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশে পরিবর্তন আনা হবে।
বাম আমলের সমালোচনা
বাম আমলের সমালোচনা করে শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র বা বিদ্যাসাগরের ছবি রাখতে দেওয়া হত না। নেতাজি ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তৎকালীন বামপন্থীদের আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও তোলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ‘হুমকির সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে শিক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। তার আগেই যাদবপুর নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। রাখি পূর্ণিমায় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’-এর পর বুধবার দ্বিতীয় দফায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ ঘিরে এহেন রাজনৈতিক মন্তব্যে ফের চর্চায় উঠে এলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।


