Aaj India Desk, কলকাতা : পুজোর আর মাত্র ৩৮ দিন। উৎসবের মরসুমে শহরের শপিং মল, রেস্তরাঁ ও ফুড কোর্টে বাড়বে মানুষের ভিড়। তার আগেই কলকাতার একাধিক অভিজাত শপিং মলে শুরু হল ফায়ার সেফটি অডিট। বুধবার সকাল থেকে পুলিশ ও দমকল আধিকারিকরা শহরের একাধিক মলে গিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, নথিপত্র এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার পথ খতিয়ে দেখছেন। শহরের মোট ২৯টি শপিং মলে এই অভিযান চলছে। (Kolkata Shopping Mall)
কোন কোন জায়গায় চলছে অডিট ?
অভিযানের আওতায় রয়েছে সাউথ সিটি মল, পার্ক স্ট্রিটের ফ্ল্যাগ হাউস, এক্রোপোলিস মল সহ একাধিক শপিং মল (Kolkata Shopping Mall)। মলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্র সঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। বিশেষ করে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত মল থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন কি না, সেই বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারযোগ্য অস্থায়ী সিঁড়ি বা বিকল্প বেরনোর পথ কার্যকর রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
রেস্তরাঁ-ফুড কোর্টেও নজর
শুধু মলের (Kolkata Shopping Mall) মূল ভবন নয়, ভিতরের রেস্তরাঁ এবং ফুড কোর্টগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। রান্নাঘর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি নির্গমন পথ সহ নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও দমকল আধিকারিকরা। কারণ পুজোর সময়ে এই জায়গাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এই তৎপরতার পিছনে রয়েছে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ১৫এইচ নম্বর বাড়ির ওই আবাসিক হোটেলে আগুনে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হোটেল, রেস্তরাঁ এবং গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল। সেই তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ে নবান্নে। এরপর কলকাতায় ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সেই অভিযানের পর এবার নজর পড়েছে শহরের বড় শপিং মলগুলির দিকে। পুজোর আগে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে মলগুলির ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, জরুরি নির্গমন পথ নিরাপদ কি না এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়মমাফিক রয়েছে কি না অডিটের মাধ্যমে তারই যাচাই চলছে।


