Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে (Increase Investment) এবার নতুন পথে হাঁটতে চাইছে সরকার। শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে তৈরি হতে চলেছে নতুন শিল্পনীতি (New Industrial Policy)। আর সেই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে বিশেষ ‘ইনসেনটিভ পলিসি’। সূত্রের খবর, নতুন শিল্পনীতি অনুযায়ী বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে একাধিক ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকতে পারে বিদ্যুতের খরচে ভর্তুকি এবং স্টেট জিএসটি-র একটি অংশ ফেরত দেওয়ার মতো সুবিধা।
শিল্প সংস্থাগুলিকে বিদ্যুতে কতটা ছাড় বা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে বিদ্যুৎ দফতরকে সমীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। শুধু বিনিয়োগ করলেই হবে না, কত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে সরকার। অর্থাৎ কোনও সংস্থা যত বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি করবে, তার জন্য তত বেশি ইনসেনটিভ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এমনকি নতুন কর্মীদের ইপিএফে নিয়োগকর্তার যে অংশের টাকা দিতে হয়, তার একটি অংশ সরকার বহন করতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পে কাজ করার মতো দক্ষ কর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের জন্য সংস্থাগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কোনও সংস্থা কী ধরনের শিল্প তৈরি করছে, বিনিয়োগের ধরন কী এবং মোট কত টাকা বিনিয়োগ করছে—এই বিষয়গুলিও ইনসেনটিভ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করলে তুলনামূলকভাবে বেশি সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
সহজ কথায়, নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান—দুই বিষয়কেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে চাইছে রাজ্য। শুধু টাকা ঢাললেই নয়, সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে কত মানুষের চাকরি হচ্ছে, সেটাও দেখা হবে।
নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের তৈরি মন্ত্রীগোষ্ঠী একাধিক বৈঠকও করেছে। সূত্রের খবর, আরও এক-দু’দফা আলোচনার পর ইনসেনটিভ পলিসির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে। এই নীতিকেই আগামী দিনে বাংলায় দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ টানার অন্যতম বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার।


