27 C
Kolkata
Tuesday, September 8, 2026
spot_img

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম কালিম্পং সফরে শুভেন্দু, পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলায় বড় বৈঠক

Aaj India Desk, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার পর প্রথমবার পাহাড়ে পা রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কালিম্পং সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। শুধু সরকারি পরিষেবা প্রদানই নয়, পাহাড়ের নিরাপত্তা এবং বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতিও সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসন এবং GTA-র সঙ্গে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

কালিম্পং টাউন হলে দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক কর্মসূচি। ২০২৩ সালের তিস্তা বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনও তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩টি পরিবারকে বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে উপভোক্তাদের হাতে।

ধস নিয়ে আর ঢিলেমি নয়

পাহাড়ে বর্ষা এলেই ধসের আশঙ্কা বাড়ে। কোথায় ঝুঁকি বেশি, কোন এলাকায় আগে থেকেই সতর্কতা প্রয়োজন এবং বিপদ নামলে কত দ্রুত প্রশাসন মানুষের কাছে পৌঁছতে পারবে এই বিষয়গুলিই বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

ধসপ্রবণ এলাকাগুলির তালিকা, আগাম সতর্কবার্তা, উদ্ধারকারী দলের প্রস্তুতি এবং ত্রাণ পৌঁছনোর পরিকাঠামো নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ধসের জেরে পাহাড়ের রাস্তা বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও আলোচনায় আসতে পারে।

তিস্তাই বড় চিন্তা

২০২৩ সালের ভয়াবহ বিপর্যয় তিস্তা অববাহিকার দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কালিম্পংয়ের বৈঠকে তাই তিস্তা নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নদীর বুকে জমে থাকা পলি কীভাবে সরানো যায়, নদীর জল ধারণ ও বহনক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো সম্ভব এবং অতিরিক্ত জলপ্রবাহের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় এই প্রশ্নগুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।

সমন্বয়েই জোর

পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং GTA-র মধ্যে দ্রুত সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভিন্ন দফতরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাঠামো তৈরি করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম কালিম্পং সফর নিছক সরকারি কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। একদিকে তিস্তা বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, অন্যদিকে পাহাড়ে ধসের ঝুঁকি কমানো এবং ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের প্রস্তুতি এই তিন ক্ষেত্রেই প্রশাসনের সক্রিয়তা বাড়ানোর বার্তা দিতে পারে মঙ্গলবারের সফর।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন