32 C
Kolkata
Monday, September 7, 2026
spot_img

উদ্বোধনের আগেই ফাটল! রাম বন গমন পথে ‘উন্নয়নের’ বেহাল দশা! দায় নেবে কে ?

Aaj India Desk, লখনউ : “রাম বন গমন”-এর (Ram Van Gaman Path) পথের হাল নিয়েই শুরু হল প্রশ্নের গমন! উদ্বোধনের আগেই প্রয়াগরাজের শৃঙ্গবেরপুর ধামের কাছে নতুন তৈরি রাস্তায় একাধিক ফাটল ও বসে যাওয়ার ছবি সামনে আসতেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। প্রায় ৪৩০০-৪৪০০ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্পের এই অংশটি ৮১৯ কোটি টাকার নির্দিষ্ট নির্মাণ প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। উদ্বোধনের আগেই এই কোটি টাকার নতুন রাস্তায় ফাটল ধরায় প্রশ্নের ঝড় নেট দুনিয়ায়।

উদ্বোধনের আগেই রাস্তার বেহাল দশা 

শৃঙ্গবেরপুর ধামের কাছে নতুন তৈরি রাস্তার (Ram Van Gaman Path) কোথাও পিচের উপর ফাটল, কোথাও আবার রাস্তার অংশ নিচের দিকে বসে যাওয়ার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। প্রায় ১০০ মিটার অংশে চারটি জায়গায় এমন ক্ষতি দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বৃষ্টিকে ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মেরামতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে রাস্তার ক্ষতির প্রকৃত কারণ এখনও প্রযুক্তিগতভাবে নিশ্চিত নয়।

কেনো এমন অবস্থা রাস্তার ? 

নতুন তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এমন সমস্যা দেখা দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই উঠছে কয়েকটি প্রশ্ন।রাস্তার নীচের মাটির বহনক্ষমতা কতটা পরীক্ষা করা হয়েছিল? ভিত্তির স্তর ঠিকভাবে প্রস্তুত হয়েছিল কি? বর্ষার জল দ্রুত সরানোর জন্য পর্যাপ্ত জলনিকাশির ব্যবস্থা ছিল কি? নির্মাণসামগ্রীর গুণমান এবং রাস্তার বিভিন্ন স্তরের সংযোগ কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল?বিশেষ করে গঙ্গার সেতুর সংযোগস্থলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই পরীক্ষাগুলির গুরুত্ব আরও বেশি।

উল্লেখ্য, পুরো রাম বন গমন পথের (Ram Van Gaman Path) আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৪৩০০-৪৪০০ কোটি টাকা হলেও পুরো প্রকল্পের কাজ একটি সংস্থার হাতে নেই। শৃঙ্গবেরপুরের যে অংশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি জাতীয় সড়ক ৭৩১এ-এর একটি নির্দিষ্ট নির্মাণ প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। পিএনসি ইনফ্রাটেকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘সিংরাউর উপহার থেকে বারাণপুর কাদিপুর ইচৌলি’ প্যাকেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫.৫৪৫ কিলোমিটার। এর চুক্তিমূল্য প্রায় ৮১৯ কোটি টাকা। এই প্যাকেজের মধ্যেই গঙ্গার সেতুর কাজ রয়েছে। কাজ শুরুর তারিখ ছিল ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এবং নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২৪ মাস।

ফলে শৃঙ্গবেরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সঙ্গে পিএনসি ইনফ্রাটেকের সরাসরি যোগ রয়েছে। রাস্তার নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বাভাবিকভাবেই নজর যাচ্ছে নির্মাণকারী সংস্থা, প্রকল্পের তদারকি এবং কাজ গ্রহণের আগে করা মান যাচাইয়ের দিকে।

নবীন জৈনের আর্থিক যোগ

এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নবীন কুমার জৈনের নামও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তিনি মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৪১.৯৫ কোটি টাকা দেখিয়েছিলেন। একই হলফনামায় পিএনসি ইনফ্রাটেকের শেয়ারের ঘোষিত মূল্য ছিল প্রায় ২৯১.৯৯ কোটি টাকা। এনসিজে ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেডে তাঁর ঘোষিত শেয়ারের মূল্য ছিল প্রায় ৭২.৬৮ কোটি টাকা।।পিএনসি ইনফ্রাটেকের কর্পোরেট তথ্য অনুযায়ী, প্রদীপ কুমার জৈন চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চক্রেশ কুমার জৈন ও যোগেশ কুমার জৈন ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং নবীন কুমার জৈন প্রোমোটার হিসেবে নথিভুক্ত।

নেট দুনিয়ায় একাংশের মত, প্রায় ৪৩০০–৪৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের অংশে উদ্বোধনের আগেই এমন ক্ষতিকে ঘিরে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। বৃষ্টি কারণ হলে তার প্রযুক্তিগত প্রমাণ চাই, নির্মাণে ত্রুটি থাকলে দায়ী কে তা সামনে আসতে হবে, আর তদারকিতে গাফিলতি থাকলে সেই দায়ও নির্ধারণ করতে হবে। এখন প্রশ্ন, শৃঙ্গবেরপুরের এই ফাটল কি বৃষ্টির ক্ষত, নাকি জবাবদিহির ফাটল? উত্তর দিতে হবে প্রশাসনকেই।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন