Aaj lndia Desk, মুর্শিদাবাদ: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য না হয়েও কেউ সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে প্রতিবন্ধী ভাতা সংক্রান্ত যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। আর সেই অভিযোগের সূত্রেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের নজরে গোটা বিষয়টি।
অভিযোগের কেন্দ্রে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য
এই মামলায় সামশেরগঞ্জের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আশিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি পরিচিত এবং আত্মীয়দের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পেও সেই অনিয়মের প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা বা PIL দায়ের করা হয়। মামলার শুনানিতে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ আদালতের
মামলাটি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন। শুনানির সময় রাজ্য পুলিশকে তদন্তে কোনও ধরনের ঢিলেমি না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত শেষ করতে হবে।
ইতিমধ্যেই তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকজন অভিযুক্তকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা BNSS-এর ৩৫(৩) ধারায় নোটিস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বক্তব্যও পুলিশ রেকর্ড করেছে।
৫ জুলাই দায়ের হয় ফৌজদারি মামলা
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সামশেরগঞ্জ থানায় গত ৫ জুলাই একটি ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতেই বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতি আদালতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে ১৩টিই জাল?
তবে মামলায় সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করেছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট। সামশেরগঞ্জ থানার আইসি আদালতে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন, সেখানে ১৫টি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শংসাপত্র পরীক্ষা করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক যাচাই অনুযায়ী, ওই ১৫টির মধ্যে ১৩টি শংসাপত্রই ভুয়ো ও জাল বলে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষা করা নথির একটি বড় অংশ নিয়েই গুরুতর অসঙ্গতির ইঙ্গিত মিলেছে।
তদন্তে পুলিশের উপরও নজর হাইকোর্টের
এই রিপোর্ট সামনে আসার পর মামলাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে হাইকোর্ট। তদন্ত যাতে দীর্ঘায়িত না হয় কিংবা কোনও ধরনের গাফিলতি না থাকে, সেদিকেও নজর রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ। তাই সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কারা ওই ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি বা ব্যবহার করেছে, কীভাবে সেগুলি সরকারি ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছিল এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না তদন্তে এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ। অভিযোগের সম্পূর্ণ সত্যতা অবশ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। তবে ১৫টির মধ্যে ১৩টি শংসাপত্র ভুয়ো হওয়ার প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ্যে আসায় সামশেরগঞ্জের এই প্রতিবন্ধী ভাতা সংক্রান্ত মামলা নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।


