Aaj lndia Desk,কলকাতা: শিক্ষক দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও জোরাল হল। শনিবার বিকেলে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-এর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-নাম না করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে নিশানা করেন। পাশাপাশি বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান, সংস্কৃতি এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শনিবার সকালে নিউ টাউনে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল সরকারের সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি ছাড়া আর কোনও কাজ হয়নি। বিকেলের অনুষ্ঠানে সেই বক্তব্যেরই পালটা দিতে দেখা যায় মমতাকে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে তাঁর সরকারের সময় স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো তৈরির প্রসঙ্গ।
স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে মমতার দাবি
মমতা জানান, তাঁর আমলে বিধায়ক ও সাংসদদের নিজেদের এলাকার স্কুলগুলির উন্নয়নে অর্থ ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হত। তাঁর দাবি, প্রত্যেক বিধায়ক ও সাংসদকে অন্তত পাঁচটি করে স্কুল ভবন তৈরির কাজে উদ্যোগী হতে বলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, রাজ্যসভার সাংসদদের তহবিল থেকেও স্কুল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স এবং সিসিটিভি-সহ নানা ধরনের পরিকাঠামো তৈরির কাজ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, আগের সরকারের তৈরি পরিকাঠামো নতুন করে না বানিয়ে সেগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলেও রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
বিজেপির বিরুদ্ধে সংস্কৃতি নিয়ে সরব
এরপরই বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা। নন্দনে একটি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অতিরিক্ত মাইক ব্যবহারের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বড় অনুষ্ঠান প্রতিবছর করলেও এমন পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি। এই প্রসঙ্গেই বিজেপিকে ‘নীতিহীন’, ‘রুচিহীন’, ‘ভাষাহীন’, ‘সংস্কৃতিহীন’ এবং ‘সম্প্রীতিহীন’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাংলার সংস্কৃতি এবং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজেপির যথেষ্ট ধারণা নেই।
হকার উচ্ছেদ ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও প্রশ্ন
শুধু শিক্ষা বা সংস্কৃতি নয়, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়েও বর্তমান সরকারের নীতির সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী। হকার উচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর প্রশ্ন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে কেন দরিদ্র মানুষের উপার্জনের পথ বন্ধ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজ্যের মহিলাদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শিক্ষকদের প্রসঙ্গে মমতা বলেন, জীবনের শুরু থেকে শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান মানুষের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে সেই শিক্ষকরাই বঞ্চনা, অপমান ও নানা ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছেন।


