Aaj lndia Desk, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শিক্ষা নীতি থেকে শুরু করে ইংরেজি ভাষা শেখানো, ইতিহাসের পাঠ্যক্রম থেকে শিক্ষক নিয়োগ একাধিক বিষয় নিয়ে পূর্বতন সরকারগুলির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল যে সময়মতো সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারত।
বৃহস্পতিবার কলকাতার গোলপার্কে আরএসএসের একটি শাখা সংগঠনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক ।
বাম আমলে ইংরেজি শিক্ষায় ‘তালা’?
শুভেন্দুর অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে রাজ্যে ইংরেজি ভাষা শেখার সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য , সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছিল রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায়। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সরকারের শাসনকালের শেষ দশকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
‘সময়মতো পরিবর্তন না হলে অন্য পরিস্থিতি হত’
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন। কংগ্রেসের পর বাম, পরে তৃণমূল কংগ্রেসকেও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখা হয়েছিল।
এরপরই তাঁর এই মন্তব্য, সঠিক সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসায় রাজ্য ‘বেঁচে গিয়েছে’। তা না হলে রাজ্যে ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়ে যেতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি।
জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি
ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার ক্ষেত্রে এই নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গান সম্পূর্ণ গাওয়ার বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গানটি পুরোপুরি গাওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অন্যথায় সরকারি অনুদান ও সাহায্য দেওয়া-নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরাসরি অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ফাঁকা খাতায় চাকরি দিয়ে শিক্ষক পদের মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছিল। শিক্ষাঙ্গনে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তৈরি করার পাশাপাশি NCC নিষিদ্ধ করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ইতিহাসের বইয়ে কেন কমেছে বিপ্লবীদের উপস্থিতি?
ইতিহাসের পাঠ্যক্রম নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির সিলেবাসে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল। মাতঙ্গিনী হাজরা ও ক্ষুদিরাম বসুর মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্পর্কে জানতে পড়ুয়াদের এখন অনেক বেশি খোঁজ করতে হয় বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা জরুরি।
বক্তব্য ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চর্চা
গোলপার্কের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইংরেজি শিক্ষা, ইতিহাসের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ, জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ‘বন্দে মাতরম’একাধিক ইস্যুতে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে অনেকে ।


