Aaj India Desk, দক্ষিণ দিনাজপুর: বালুরঘাটবাসীর (Balurghat) জন্য বড় সুখবর। এবার দক্ষিণ দিনাজপুর থেকেই আকাশপথে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে বালুরঘাট বিমানবন্দর (Airport) থেকে ১৯ আসনের বিমান চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৭২ আসনের বিমান চালানোর জন্য আরও ১৫০ একর জমি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বুধবার সন্ধ্যায় বালুরঘাট বিমানবন্দর ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায়, জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি, পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা-সহ এভিয়েশন দফতরের আধিকারিকরা।
বিমানবন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে ১৯ আসনের বিমান চালানো সম্ভব। তাই প্রথম ধাপে ছোট বিমান দিয়েই পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এক বছরের মধ্যেই এই পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এক বছরের মধ্যে ১৯ সিটার বিমান চালাবো। সিভিল এভিয়েশনের যিনি এসেছিলেন, তাকে লাইসেন্সের জন্যও বলা হল। দুই বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ১৫০ একর জমি সংগ্রহ করব। রাজ্য সরকার জমি কিনবে। জমি অধিগ্রহণ হলে ৭২ সিটের বিমান চালানো হবে। আপাতত অবিলম্বে ১৯ সিটের বিমান চালাতে বলা হয়েছে। কোম্পানিগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হবে, পরিবহন মন্ত্রীও থাকবেন। সর্বাধিক এক বছর লাগবে। তার আগেই চালু করার চেষ্টা করা হবে।”
বিমানবন্দর চালু করার ক্ষেত্রে আগের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “বিগত সরকার ইচ্ছা করেই এই বিমানবন্দর চালু হতে দেয়নি। তবে এখন এই বিমানবন্দর চালু হবে।” বিমান পরিষেবা শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
এদিন বালুরঘাট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও এদিন আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কাজে সাংসদদের তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও অর্থ দেওয়ার কথা জানান। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও বালুরঘাটের বাসিন্দারা আবাস যোজনা, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল এবং অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এলাকায় থাকা বেআইনি বালির ঘাটগুলিকে নিয়মের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ যাতে এক হাজার টাকার মধ্যে বালি কিনতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা।


