কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, আকাশজুড়ে দুর্যোগের মেঘ। তার মধ্যেই DVC একের পর এক বাঁধ থেকে জল ছাড়ায় নতুন করে বাড়ছে আতঙ্ক। পুজোর মুখে কি তবে ফের ভাসতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গ (South Bengal Flood)? আর জল বাড়লে কি আবারও সামনে আসবে সেই পুরনো বিতর্ক, ‘ম্যান মেড বন্যা’?
বুধবার সকাল থেকেই পাঞ্চেত ও মাইথন থেকে জল ছাড়া শুরু হয়েছে বলে খবর। মাইথন থেকে প্রায় ৫৫ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে প্রায় ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। অর্থাৎ দুই বাঁধ মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল।
তবে এখানেই শেষ নয়। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আরও জল ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় প্রশ্ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যদি বাঁধের জলও যোগ হয়, তাহলে কি দক্ষিণবঙ্গে ফের ভয়াবহ বন্যার (South Bengal Flood) পরিস্থিতি তৈরি হবে?
চার জেলায় সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা!
দামোদরের নিম্ন অববাহিকার চার জেলা পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানে জামালপুর, রায়না, খণ্ডঘোষের মতো এলাকায় জল ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। হুগলির আরামবাগ মহকুমায় বন্যার ভয় নতুন নয়। আরামবাগ, পুরশুড়া, খানাকুল-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাওড়ার আমতা ও উদয়নারায়ণপুর-সহ একাধিক এলাকাতেও নজর রয়েছে প্রশাসনের। শুধু এই চার জেলা নয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, দুর্গাপুরের একাধিক এলাকা এবং বাঁকুড়ার পাত্রসায়র ও সোনামুখী এলাকাতেও প্লাবনের (South Bengal Flood) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আর এখানেই ফিরছে পুরনো বিতর্ক!
বাংলায় DVC-র জল ছাড়া নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতে তৎকালীন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার DVC-র জল ছাড়াকে কেন্দ্র করে ‘ম্যান মেড বন্যা’-র অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার ফলেই বহু এলাকায় বন্যা (South Bengal Flood) পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অন্যদিকে DVC-র পাল্টা বক্তব্য ছিল, রাজ্যকে জানিয়েই জল ছাড়া হয়। সেই পুরনো চাপানউতোর কি এবার আবার বাংলার রাজনীতির আলোচনায় ফিরতে চলেছে?
তবে এবার পরিস্থিতি খানিকটা আলাদা। রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি সরকার। DVC কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা। ফলে অতীতের মতো সরাসরি সংঘাতের ছবি কতটা দেখা যাবে, তা নিয়ে কৌতূহল থাকছেই।
কিন্তু তার থেকেও বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই যদি দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বন্যা (South Bengal Flood) পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে নতুন সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা।
পুজোর মুখে নতুন আতঙ্ক!
দামোদর সংলগ্ন বহু এলাকায় বর্ষা মানেই বন্যার আশঙ্কা। কিন্তু এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ এবং একাধিক জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিস্থিতি।আর যদি সেপ্টেম্বরেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকে, তাহলে পুজোর মুখে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই কি তবে দক্ষিণবঙ্গে বাজছে বন্যার বিপদঘণ্টা? ‘ম্যান মেড বন্যা’ বনাম DVC-র সেই পুরনো বিতর্ক কি এবার নতুন সরকারের আমলে নতুন মোড় নেবে? নাকি প্রশাসনিক তৎপরতায় পুজোর আগেই সামলে দেওয়া যাবে পরিস্থিতি? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আগামী কয়েকদিনের বৃষ্টি এবং দামোদরের জলস্তরের গতিপথে। আর সেই সঙ্গে এটাই হতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকারের অন্যতম বড় পরীক্ষা!


