কলকাতা: বর্ষার প্রকোপ (Monsoon Disaster) এবার আছড়ে পড়েছে বাংলায়! এক বিপদ কাটতে না কাটতেই আরও বড় বিপদ! ভোরের অন্ধকার কাটার আগেই ফরাক্কায় রেললাইনে ধস (Landslide)। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামশেরগঞ্জে ঝাড়খণ্ডগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও হুড়মুড়িয়ে বসে গেল রাস্তা। নিম্নচাপের ভ্রুকুটি আর টানা ভারী বৃষ্টির (Monsoon Disaster) মাঝে পরপর দুই ধসে কার্যত থমকে গেল উত্তর মুর্শিদাবাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ১০ মিনিট। তখনও চারপাশ অন্ধকার। হঠাৎ নজরে আসে ভয়াবহ বিপদ। ফরাক্কা ব্যারেজের প্রবেশমুখে আপ লাইনের মাটি সরে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট রেললাইন বসে যায়। শুধু বসেই যায়নি, ধসের জেরে লাইন বেঁকেও যায়।
রাতে রেললাইনে পেট্রোলিং করছিলেন গ্যাংম্যানরা। তাঁদের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। বিপজ্জনক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে লাল পতাকা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। খবর যায় মালদহ কন্ট্রোলে।
আর তারপরই শুরু হয় রেল পরিষেবায় বিপর্যয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় আপ লাইন। নিউ ফরাক্কা, তিলডাঙ্গা এবং মালদহ টাউনের মাঝে আটকে পড়ে একের পর এক ট্রেন।
আটকে পড়ে গৌড় এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল এবং যোগবানি এক্সপ্রেস। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে বাড়তে থাকে দুর্ভোগ। কোথাও জল, কোথাও খাবারের জন্য হাহাকার।
রেল অবশ্য বসে থাকেনি। ৬০ জনেরও বেশি ইঞ্জিনিয়ার ও ট্র্যাকম্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু করেন। বোল্ডার, পাথর ও বালি ফেলে ধস সামলানোর চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু তখনও কেউ জানতেন না, আরও একটি বিপদ অপেক্ষা করছে!
সকাল ৭টা। এবার ধস (Landslide) সড়কপথে! ফরাক্কার রেললাইন বিপর্যয় সামলানোর চেষ্টা যখন চলছে, ঠিক তখনই সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলায় এল দ্বিতীয় ধাক্কা। চাঁদপুর পল্টন ব্রিজ সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডগামী রাস্তায় আচমকাই প্রায় ৩০ ফুট অংশ হুড়মুড়িয়ে বসে যায়। যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন লরি, বাইক, টোটো থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স শত শত যানবাহন পাকুড় ও ঝাড়খণ্ডের দিকে যায়, মুহূর্তে সেই পথ হয়ে যায় অচল।
ধসের (Landslide) পর পুরোপুরি বন্ধ যান চলাচল। এমনকি রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে বলে খবর। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে হেঁটেও পারাপার করা কঠিন। ফলে একই দিনে উত্তর মুর্শিদাবাদের এক প্রান্তে রেললাইন বসে গেল, আর অন্য প্রান্তে সড়কপথ তলিয়ে গেল ধসে (Landslide)। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছোট যানবাহনকে বিকল্প গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। তবে ভারী যান চলাচল আপাতত বন্ধ।


