Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতার কোনও এলাকায় জবরদখল উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে (Eviction and Demolition Drive) ফেলা কিংবা কোনও বাড়ি বা নির্মাণ সিল করার প্রয়োজন হলে আচমকা অভিযান চালানো যাবে না। আগে থেকেই পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা করতে হবে। কত জন পুলিশকর্মী প্রয়োজন, কোন আধিকারিকরা থাকবেন এবং পুরসভার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (Kolkata Police Commissioner)।
লালবাজারের (Lalbazar) তরফে জানানো হয়েছে, আগে থেকে প্রস্তুতি থাকলে একদিকে যেমন অভিযান দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে, তেমনই ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে। এই ধরনের অভিযানের জন্য ছটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
1.আগাম প্রস্তুতি: কোনও উচ্ছেদ বা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য কত জন পুলিশকর্মী প্রয়োজন, তা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট থানা এবং ডিসি দফতরকে জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী বাহিনী প্রস্তুত রাখা হবে।
2.দ্রুত কাজ শেষ করা: ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর অযথা সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব অভিযান শেষ করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ কাজ চললে সেখানে সাধারণ মানুষ বা বিরোধিতাকারীদের ভিড় বাড়তে পারে। তাই এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে বলা হয়েছে।
3. পুলিশ ও পুরসভার মধ্যে সমন্বয়: অভিযানে থাকা পুলিশকর্মী এবং পুরসভার আধিকারিকদের নিজেদের দায়িত্ব ও আইনি ক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। কে কোন কাজ করবেন, তা আগে থেকেই স্পষ্ট করে নিতে হবে।
4. পর্যাপ্ত বাহিনী: অভিযান চলাকালীন যাতে পুলিশবাহিনীর ঘাটতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে।
5. স্পর্শকাতর এলাকায় আগাম বৈঠক: কোনও এলাকা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক বা উত্তেজনা থাকলে সেখানে অভিযান চালানোর আগে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের বৈঠক করতে হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারপরই অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
6. সিল করার ক্ষেত্রে আইনি প্রস্তুতি: কোনও বাড়ি বা এলাকা সিল করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে রাখতে হবে। অভিযানের সময় যাতে কোনও নথিগত সমস্যা তৈরি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।
অভিযানের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রাখার কথাও বলা হয়েছে। ডিসি পদমর্যাদার একজন আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির নেতৃত্বে বাহিনী রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজন হলে কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখতে হবে।
পাশাপাশি, অভিযানে মহিলা পুলিশকর্মীর প্রয়োজন হতে পারে কি না, সেটিও আগে থেকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু উচ্ছেদ বা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার আইনি প্রক্রিয়া নয়, তার আগে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিকল্পনা এবং পুলিশ-পুরসভার মধ্যে সমন্বয়ের উপরও জোর দিয়েছে লালবাজার। লালবাজারের এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল—আগে থেকে প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত বাহিনী এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্ছেদ বা বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযানে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা।


