Aaj India Desk, বীরভূম: বীরভূমের রামপুরহাটের (Rampurhat) একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়ুষ্মান কার্ডের (Ayushman Card) মাধ্যমে চিকিৎসা হয়েছে চার বছরের ফারহান আলির। কিছুদিন আগে খেলতে গিয়ে তাঁর পায়ের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে সেই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের (Operation) পর বর্তমানে সুস্থ রয়েছে ছোট্ট ফারহান।
ফারহানের বাড়ি বীরভূমের মহম্মদবাজারের সেকেড্ডা ডাঙাপাড়ায়। মঙ্গলবার তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সিউড়িতে জেলাশাসকের দফতরে উপস্থিত ছিল ফারহানও। সেখান থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শিশুটির চিকিৎসা কোথায় হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের পর এখন তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা জানতে চান তিনি।
কথোপকথনের সময় ফারহানের বাবার কাছে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, চিকিৎসার জন্য মোট কত টাকা খরচ হয়েছিল এবং সেই টাকা তাঁদের দিতে হয়েছে কি না। তিনি প্রশ্ন করেন, “৫০ হাজার টাকার বিল হয়েছিল, তারপর কি একটাকাও দিতে হয়েছে?” জবাবে ফারহানের বাবা আসগার আলি জানান, তাঁদের কোনও টাকা দিতে হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৬ অগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ এই পরিষেবার সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর দাবি, গোটা দেশে প্রায় ৬২ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। সাধারণ মানুষকে কোনও ধরনের ভুল ধারণায় না থেকে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
একইভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের বাসিন্দা ভারতী পাইকও আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন। তাঁর গলব্লাডারে পাথর ধরা পড়েছিল। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৩১ হাজার ৭০০ টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আয়ুষ্মান কার্ড থাকায় সেই টাকা তাঁকে দিতে হয়নি।
মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকেও আয়ুষ্মান ভারত যোজনার সুবিধাভোগীদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই ভারতীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন এবং চিকিৎসার সময় কোনও সমস্যা বা অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল কি না, তা জানতে চান তিনি। ভারতী জানান, তমলুকের একটি নার্সিংহোমে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত প্রায় ৩১,৭০০ টাকা তাঁকে দিতে হয়নি। আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই তাঁর চিকিৎসা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর এখন তিনি সুস্থ রয়েছেন।


