Aaj India Desk, কলকাতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Natural Disaster) কিংবা পরিকাঠামোগত বিপর্যয়ের সময় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে রাজ্যে তৈরি হল নতুন উদ্ধারকারী দল ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Bahini)। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০ সদস্যের এই বাহিনীর পথচলা শুরু হয়। আপাতত কলকাতা, দার্জিলিং পাহাড় এবং সুন্দরবনের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এনডিআরএফের (NDRF) ধাঁচে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহিনীকে আরও বড় করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজ্য সৈনিক বোর্ডের আওতায় থাকা ৪০ বছর পর্যন্ত বয়সের তরুণ এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে এই বাহিনী। প্রথম ধাপে কলকাতায় ১০০ জন, দার্জিলিং পাহাড়ে ৫০ জন এবং সুন্দরবনে ৫০ জন সদস্যকে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দিঘা, মন্দারমণি, মুকুটমণিপুর, তারাপীঠ এবং তরাই-ডুয়ার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাতেও এই বাহিনীর দল মোতায়েন করা হবে।
বাহিনীর সদস্যদের বলা হবে ‘বীর’। আর দলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় হবে ‘বীর নায়ক’ হিসেবে। একজন ‘বীর’ মাসে ২৫ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। ‘বীর নায়ক’-এর সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। প্রতি বছর সম্মানীর সঙ্গে ৩ শতাংশ করে বৃদ্ধি হবে।দুর্যোগের সময় কাজ করতে গিয়ে কোনও সদস্য গুরুতর আহত হলে বা প্রাণ হারালে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে। স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা কভার থাকবে।
এছাড়াও ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আসা অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের সরকারি বিভিন্ন ডিসিপ্লিনড বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পুলিশ, দমকল, বন দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগে প্রায় ২০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আমফানের সময় গাছ কাটার কাজে ওড়িশা থেকে দল আনতে হয়েছিল। আবার পোস্তা এবং মাঝেরহাট উড়ালপুল ভেঙে পড়ার মতো ঘটনাও রাজ্যকে বড় শিক্ষা দিয়েছে। জলাজমি ভরাট করে নির্মাণ, যথাযথ মাটি পরীক্ষা না করে বিল্ডিংয়ের অনুমোদন কিংবা উড়ালপুলের ভার বহনের ক্ষমতা ঠিকভাবে পরীক্ষা না করার মতো গাফিলতির কারণেই অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি তারাতলায় একটি বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় ‘অর্জুন বাহিনী’র সদস্যরা প্রায় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। সেই প্রসঙ্গে বলা হয়, এতদিন উদ্ধারকারী দল এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এখন সেই পরিস্থিতি বদলানো হবে। কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ কাজে লাগিয়ে উদ্ধারকারী দলকে আধুনিক গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হবে।
দার্জিলিং পাহাড়ের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নিয়েও যৌথ সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর পাহাড়ের স্থায়িত্ব নিয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা যে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ‘হিমালয়ান স্টাডি’ নিয়ে যে চিঠি এসেছে, তা মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিতভাবে পাহাড়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করবে। সেই রিপোর্ট দ্রুত সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার কথাও জানানো হয়েছে।


