Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy) ভালো গতিতে এগোচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুন—এই প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের প্রকৃত জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান সামনে আসার পর এই ফলকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। তাঁর মতে, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের পরিশ্রম, দক্ষতা এবং দৃঢ় মানসিকতা।
সরকারি তথ্য বলছে, গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে এই পরিসংখ্যান। এই ফল নিয়ে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোভিডের পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতি একের পর এক সমস্যার মুখে পড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা—সবকিছুর মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি যে নিজের গতি ধরে রাখতে পেরেছে, তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
GDP-র এই পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে বিরোধীদেরও আক্রমণ করেছেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, দেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক প্রচার করছে এবং ‘মিথ্যা গুজব’ ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তব তথ্য সেই প্রচারকে ভুল প্রমাণ করেছে বলেই দাবি তাঁর। একইসঙ্গে মোদী মনে করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তাই শুধু বর্তমান সাফল্যে সন্তুষ্ট না হয়ে আগামী দিনেও অর্থনীতির গতি ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষকেও দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘স্বদেশী’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর উপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের তৈরি পণ্য বেশি ব্যবহার করলে দেশের ব্যবসা ও উৎপাদন আরও বাড়বে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিদেশি খরচ কমানোর কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে বিয়ে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আয়োজনের জন্য বিদেশে না করে দেশেই করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এতে দেশের ব্যবসা, পর্যটন এবং কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই লাভ হতে পারে।
প্রয়োজন না থাকলে অতিরিক্ত সোনা কেনার বিষয়েও সতর্ক করেছেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের খরচ ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। তবে, ৭.৮ শতাংশ GDP বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর হলেও, সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। আগামী দিনে বিশ্ব পরিস্থিতি, দেশের মানুষের চাহিদা, বিনিয়োগ এবং উৎপাদনের গতি কতটা থাকে, তার উপরই নির্ভর করবে ভারতের অর্থনীতি একইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে কি না।


