কাঠমান্ডু: চারদিকে শুধু ধ্বংস আর ধ্বংস! নদীর ভয়ঙ্কর স্রোতে (Nepal Flash flood) চোখের সামনে ভেসে গেল বাড়িঘর, দোকান, বাজার! কিন্তু আশ্চর্যভাবে দাঁড়িয়ে রইল একটি বাড়ি। শুধু বাড়িটিই নয়, তার ভিতরে থাকা মানুষগুলিও রইলেন নিরাপদ! নেপালের সেই সবুজ বাড়ি এখন রীতিমতো ভাইরাল। আর তাকে ঘিরেই উঠছে একটাই প্রশ্ন, এটা কি সত্যিই অলৌকিক ঘটনা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে নিখুঁত বিজ্ঞান?
হড়পা বানের (Nepal Flash flood) ভয়ঙ্কর জলরাশি যখন একের পর এক বসতি গিলে নিচ্ছে, তখন নিজের চোখের সামনে জল বাড়তে দেখে ওই পরিবারের সদস্যরা উঠে যান বাড়ির তিন তলায়। বাড়ির একেবারে উপরের অংশে ছিল একটি ছোট্ট মন্দির। শেষমেশ সেই মন্দিরের কাছেই আশ্রয় নেন তাঁরা।
এরপর শুরু হয় প্রকৃতির ভয়ঙ্কর তাণ্ডব
প্রবল স্রোতে নদীর জল আছড়ে পড়তে থাকে বাড়ির গায়ে। আশপাশের একের পর এক বাড়ি জলের তোড়ে ভেসে যায়। চারদিকে তখন শুধু জল, ধ্বংসাবশেষ আর আতঙ্ক। কিন্তু সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেও অবিশ্বাস্যভাবে দাঁড়িয়ে থাকে সবুজ বাড়িটি!
কিছুক্ষণ পর কমতে শুরু করে জলের গতি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কুইক রেসপন্স টিম। শেষ পর্যন্ত ওই বাড়িতে আটকে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মানুষজন উদ্ধার হওয়ার পরেও রহস্য কাটেনি। বরং প্রশ্নটা আরও বড় হয়েছে, এত ভয়ঙ্কর স্রোতের (Nepal Flash flood) মধ্যেও বাড়িটা ভাঙল না কেন?
‘মিরাকল’ নয়, এর পিছনে রয়েছে বিজ্ঞান?
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। একাংশের মতে, এই ‘মিরাকল হাউস’-এর পিছনে আসলে রয়েছে বাড়িটির নির্মাণকৌশল। তাঁদের যুক্তি, বাড়িটি শুধুমাত্র ইটের লোড-বেয়ারিং দেওয়ালের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়নি। বরং নির্মাণের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল রড, সিমেন্ট, আরসিসি কলাম ও বিমের শক্ত কাঠামো। ফলে প্রবল জলস্রোতের ধাক্কাতেও বাড়িটির কাঠামো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে।
সহজ ভাষায়, জল যতই পাশ থেকে ধাক্কা দিক, বাড়ির কাঠামো সেই ল্যাটারাল লোড সামলানোর ক্ষমতা রাখত। ফলে অন্য বাড়ির মতো হড়পা বানের (Nepal Flash flood) স্রোতে সেটি ভেসে যায়নি। তবে শুধু নির্মাণকৌশলই নয়, আরও একটি কারণের কথাও বলছেন অনেকে।
জায়গাটাও কি বাঁচিয়ে দিল বাড়িটাকে?
একদল বিশেষজ্ঞের ধারণা, বাড়িটি হয়তো হড়পা বানের মূল স্রোতের খানিকটা বাইরে এবং তুলনামূলক উঁচু জায়গায় অবস্থান করছিল। ফলে প্রবল স্রোতের সরাসরি ধাক্কা থেকে বাড়িটি কিছুটা রক্ষা পেয়েছে। অর্থাৎ, বাড়ির মজবুত কাঠামো এবং অনুকূল অবস্থান, এই দুইয়ের মিলেই হয়তো ঘটেছে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা।
বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস!
বাড়িটি কীভাবে বেঁচে গেল, তা নিয়ে যখন যুক্তি-পাল্টা যুক্তি চলছে, তখন অনেকের আবার অন্য মত। তাঁদের সাফ কথা, এটা শুধুই বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। পরিবারের উপর ঈশ্বরের কৃপা ছিল বলেই তাঁরা এমন ভয়ঙ্কর বিপদ থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন। কেউ দেখছেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ, কেউ খুঁজছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিখুঁত হিসাব। কেউ আবার বলছেন, বাড়ির অবস্থানই হয়তো ছিল আসল রক্ষাকবচ।
প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রোষের সামনে একটি বাড়ির এই অদ্ভুতভাবে টিকে যাওয়া তাই এখন নেপালের অন্যতম চর্চিত দৃশ্য। মিরাকল, নাকি বিজ্ঞান? উত্তর যাই হোক, সবুজ বাড়িটির গল্প কিন্তু সত্যিই অবিশ্বাস্য!


