নয়াদিল্লি: হিমালয়ের বুক চিরে নেমে আসা বরফ, পাথর আর হড়পা বন্যার (Nepal Flash flood) ভয়াবহ তাণ্ডবে স্তব্ধ নেপাল। অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর নিখোঁজ ৩৮৪ জন পর্যটক! যাঁদের মধ্যে ২৯১ জন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সূত্রের খবর, ১০৫ জন ভারতীয়-সহ প্রায় ৪০০ জন কৈলাসযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দার এখনও পর্যন্ত কোনও খবর মেলেনি।
এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে ফোনে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি, সব ধরনের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। এক্সে মোদী লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে। নেপালের ভাই-বোনদের এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ সংহতির সঙ্গে পাশে রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণে আমাদের দলগুলো সমন্বয়ে কাজ করছে”।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি নেপালের রাসুয়া জেলায়। যেখানে হড়পা বানের (Nepal Flash flood) স্রোত মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সেতু ও রাস্তা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। নেপাল পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নদীর ফুলে ওঠা জলরাশি গোটা বসতি গ্রাস করছে। কাদার স্তূপের মধ্যে একটি বাড়ির শুধু উপরের তলাটি দৃশ্যমান! যেন ধ্বংসস্তূপের মাঝেও বেঁচে থাকার শেষ চিহ্ন।
একই দুঃস্বপ্ন, আবারও
উল্লেখ্য, এই রাসুয়াই গত বছরের আগস্টেও একই ধরনের বিপর্যয়ের সাক্ষী ছিল। তখন প্রতিবেশী তিব্বতে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে একটি হিমবাহ-হ্রদ উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যা (Nepal Flash flood) হয়েছিল। সেই ঘটনায় ৯ জন প্রাণ হারান, আর ভারত-নেপাল সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আজ আবারও হিমালয়ের কোলে সেই একই প্রশ্ন, প্রকৃতির এই ক্রমবর্ধমান তাণ্ডবের সামনে কতটা নিরাপদ পাহাড়ি জনপদ? নেপালে এখন চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান। শত শত পরিবার স্বজনের অপেক্ষায়, আর পুরো দেশ তাকিয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরেকটি প্রাণ ফিরে পাওয়ার আশায়।


