বাঁকুড়া: ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েই কেটে যাচ্ছে সময়। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে এসে চরম হয়রানির অভিযোগ রোগী ও পরিজনদের। অভিযোগ, আভা আইডি (ABHA ID) তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং কর্মী ঘাটতি, এই জোড়া সমস্যায় টিকিট কাটতেই লেগে যাচ্ছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা।
আউটডোর খোলার অনেক আগে থেকেই টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। কিন্তু লাইন এগোচ্ছে ধীরগতিতে। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে সেই ভিড় অনেক সময় ছাড়িয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল ভবনের বাইরে, পৌঁছে যাচ্ছে পাশের রাস্তাতেও। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের।
এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে আভা আইডি (ABHA ID) তৈরির প্রক্রিয়া। বর্তমানে আধার কার্ডের ভিত্তিতে রোগীদের আভা আইডি তৈরি করা হচ্ছে টিকিট কাটার সময়ই। ফলে প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
তার উপর রয়েছে ভয়াবহ কর্মী সংকট। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি এবং জিডি মিলিয়ে যেখানে প্রায় ৫০০ কর্মী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১০০-র আশপাশে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাউন্টার চালু করা তো দূরের কথা, থাকা সব কাউন্টারও সবসময় চালু রাখা যাচ্ছে না।
টিকিট কাটতেই যদি দুপুর গড়িয়ে যায়, তাহলে ডাক্তার দেখাবেন কখন?
এক রোগীর কথায়, “টিকিট করাতেই এত সময় লেগে যাচ্ছে যে ডাক্তার দেখানোই হচ্ছে না। পরে ডাক্তার যদি কোনও রিপোর্ট করতে বলেন, সেগুলি করাতে করাতেই অনেক সময় ডাক্তারবাবুর সময় হয়ে যাচ্ছে, তিনি চলে যাচ্ছেন।” অর্থাৎ চিকিৎসার প্রথম ধাপেই যদি এতটা সময় চলে যায়, তাহলে রোগীর কাছে হাসপাতালের আউটডোর পৌঁছনোই যেন হয়ে উঠছে নতুন পরীক্ষা।
আভা আইডি (ABHA ID) তৈরি ও কর্মী ঘাটতির জোড়া সমস্যার মাঝে তাই বাঁকুড়া মেডিক্যালের আউটডোরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রোগী ডাক্তার দেখাবেন, নাকি সারাদিন কাটাবেন টিকিটের লাইনে?


