Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা (Voter List) সংশোধনের প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুনানিতে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আদালতে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট প্রায় ৩৮ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩১ লক্ষ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হওয়া ঠেকাতে বা কোনও নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে। অন্যদিকে, তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর নিজের নাম ফেরানোর জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লক্ষ ভোটার।
শুনানিতে আরও জানানো হয়, বাদ পড়া ভোটারদের করা ৮৩ হাজার আপিল ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার আবেদনকারীর নাম ফের ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত গিয়েছে। এই পরিসংখ্যান শুনে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে আদালত। বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনগুলি দ্রুত এবং অগ্রাধিকার দিয়ে নিষ্পত্তি করা যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট।
এসআইআরের কারণে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ গেলেই যে তাঁর নাগরিকত্ব চলে যাবে, এমনটা নয়—শুনানিতে ফের স্পষ্ট করেছে শীর্ষ আদালত। একইভাবে, শুধু ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে কেউ সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিস্তারিত হিসেব চেয়েছে। কমিশনকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, মোট কতজন ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার আবেদন করেছেন এবং কতজনের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে যে হারে মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাতে সব আবেদন শেষ হতে চার-পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলায় দ্রুত কাজের জন্য ব্লকভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল তৈরির দাবি জানিয়েছেন অধীর। পাশাপাশি, মামলার চাপ কমাতে আরও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগের কথাও বলেছেন তিনি। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন হলফনামায় কী পরিসংখ্যান দেয় এবং বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করে।


