Aaj India Desk কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) এসএফআই (SFI) ও এবিভিপির (ABVP) মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই গোলমালের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর (Nandalal Bose) নকশা করা এই প্রতীককে পায়ে আঘাত করার একটি ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দেন। একইভাবে কড়া মন্তব্য করেন অর্জুন সিংও। তবে এই অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
এমব্লেম ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা করে অগ্নিমিত্রা বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সঙ্গে এই প্রতীক জড়িয়ে রয়েছে। সেটি ভাঙচুর করা বা বাইরের লোকজনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে অশান্তি তৈরি করা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এমন কাজ যদি তাঁর দলের কেউ করেন, তবুও তিনি তা সমর্থন করবেন না। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রাখারও আবেদন জানান তিনি।
শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অতীতের প্রসঙ্গও তোলেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, আগে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সব বিষয়কে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে দেখা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর পক্ষেই তিনি সওয়াল করেন।
যাদবপুরের ঐতিহাসিক এমব্লেমের ক্ষতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও। তাঁর মতে, ভেঙে যাওয়া অংশ হয়তো পরে মেরামত করা সম্ভব। কিন্তু যে ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীককে অসম্মান করা হয়েছে, সেটাই সবচেয়ে বেশি কষ্টের।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় এফআইআর করতে দেরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানিয়েছেন, কেন এফআইআর দায়ের করতে সময় লেগেছে, তার উত্তর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে। তাঁর দাবি, কিছু দুষ্কৃতী ইচ্ছাকৃতভাবে এমব্লেমটি ভেঙে সেই দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, প্রশাসন দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।


