30 C
Kolkata
Saturday, August 22, 2026
spot_img

‘জানতাম তৃণমূল জিতবে না, তবু প্রচারে গিয়েছিলাম!’ মমতার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন ইন্দ্রানী!

কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে তারকাদের আনাগোনা নতুন কিছু নয়। ভোটের ময়দানে কখনও তাঁরা তারকা প্রচারক, কখনও আবার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণে কটাক্ষের মুখে পড়েন। অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদারও (Indrani Haldar) সেই তালিকায় অন্যতম। ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও কটাক্ষ তাঁকে শুনতে হয়েছে পর্দার ‘শ্রীময়ী’-কে! এবার তা নিয়েই মুখ খুলে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী।

ইন্দ্রানী (Indrani Haldar) জানান, শেষবার তৃণমূলের হয়ে প্রচারে গিয়েই নাকি তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, এলাকায় বিজেপির হাওয়া বইছে। এমনকি তাঁর বক্তব্য, কোথাও কোথাও তৃণমূল জিতবে না জেনেও তিনি প্রচারে গিয়েছিলেন।

তবে সেই প্রচারের বিনিময়ে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন, এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়েছেন ইন্দ্রাণী। তাঁর দাবি, তিনি ফ্রিতে প্রচার করেননি; যেভাবে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মাচা শো করেন, সেভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও গিয়েছেন।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে অভিনেত্রীর বক্তব্যে। তাঁর (Indrani Haldar) দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং স্টার ক্যাম্পেইনার হিসেবেও দায়িত্ব দিয়েছিলেন। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি বিভিন্ন সভায় ছুটে যেতেন। এমনকি তাঁকে একসময় এমপি বা এমএলএ করার কথাও বলা হয়েছিল বলে দাবি ইন্দ্রাণীর। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এ নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দোষ দিতে নারাজ তিনি। বরং ইন্দ্রাণীর আক্ষেপ, তাঁর অনেক জুনিয়র অভিনেত্রী আজ সাংসদ বা বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।

রাজনীতি বদলেছে, বন্ধুত্ব নয়!

তবে গল্পে আরও একটি চমক রয়েছে। ইন্দ্রাণী (Indrani Haldar) জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারীর গ্রামেও তিনি গিয়েছেন এবং সেখানে যাত্রা করেছেন। শুভেন্দুর বাবা তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

শুধু তাই নয়, বর্তমান রাজনৈতিক শিবিরের একাধিক পরিচিত মুখের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাপিয়া, রুদ্র কিংবা অগ্নিমিত্রা, নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে তিনি দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর এখানেই যেন ইন্দ্রাণীর (Indrani Haldar) বক্তব্যের সবচেয়ে বড় বার্তা, রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বদলে যায় না।

বিজেপি সরকার আসার পরেই শুভেচ্ছা পোস্ট!

রাজনৈতিক পালাবদলের পর ইন্দ্রাণী কী করবেন, তা নিয়েও ছিল কৌতূহল। অভিনেত্রীর দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৪ তারিখেই তিনি সৌজন্য জানিয়ে শুভেচ্ছা পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু সেই পোস্টও তাঁকে রেহাই দেয়নি। কমেন্ট বক্সে শুরু হয় কটাক্ষ। কেউ প্রশ্ন করেন, ‘রং বদলে গেল?’ আবার কেউ মনে করিয়ে দেন, তিনিই তো তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছিলেন। ইন্দ্রাণীর অবশ্য সাফ বক্তব্য, এসব মন্তব্যে তাঁর কিছু যায় আসে না।

অর্থাৎ, একদিকে তৃণমূলের হয়ে প্রচারের স্মৃতি, অন্যদিকে বিজেপির হাওয়া আগে থেকেই টের পাওয়ার দাবি; একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারের আমন্ত্রণের স্মৃতি, ইন্দ্রাণীর (Indrani Haldar) রাজনৈতিক গল্প যেন একেবারে ‘এপার-ওপার’ দুই বাংলার রাজনৈতিক সীমানার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক তারকার গল্প।

তাঁর বক্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট, রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি যে যার সঙ্গে কাজ করেছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে তার সঙ্গে গুলিয়ে দেখতে নারাজ। আর সেই অবস্থানই নতুন করে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি করেছে কৌতূহল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন