কলকাতা: ৩ হাজারের গ্যারান্টি! কিন্তু চলতি মাসের টাকা হাজারও ‘মা-বোনের’ অ্যাকাউন্টে এখনও ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা, অভিযোগে তোলপাড়! সরকার বদলের পর বেশি টাকা পাওয়ার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে অবশেষে পথে নেমেছেন ‘বঞ্চিত’ মহিলারা! কোথাও প্রশাসনিক দফতরের সামনে ক্ষোভ, কোথাও জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে বিক্ষোভ! অন্নপূর্ণার (Annapurna Yojana) টাকার অপেক্ষা যেন পালাবদলের পর ক্রমেই রাজনৈতিক রান্নাঘরের সবচেয়ে গরম হাঁড়ি হয়ে উঠছে।
কিন্তু এই বিক্ষোভের জন্য দায়ী কে? এর জন্যেও পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেই দুষলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)! শনিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নিয়ম রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধাকে ‘সবার জন্য’ পাওয়ার অভ্যাস তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
দিলীপের (Dilip Ghosh) কথায়, “দানধ্যান সবাইকে দেওয়া হবে, এই অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল।” তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারীর সংখ্যা বিপুল হওয়ায় তথ্য আপলোড ও যাচাইয়ে সময় লাগতেই পারে। তাই বিক্ষোভ না করে অপেক্ষা করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু বাস্তবের ছবিটা অবশ্য এতটা শান্ত নয়। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান একদল মহিলা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বৈঠক মাঝপথে থামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। এই বিক্ষোভের পিছনেও তৃণমূলের ‘ভূমিকা’ দেখছেন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, দলের কিছু লোক ভিতরে থেকে সমস্যা তৈরি করছেন। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থাৎ, একদিকে মহিলাদের প্রশ্ন, “টাকা কবে আসবে?”
অন্যদিকে মন্ত্রীর উত্তর, “একটু ধৈর্য ধরুন।” আর মাঝখানে রাজনীতির চেনা পাল্টা অভিযোগ, “গণ্ডগোলটা করছে কারা?”
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়িও এর আগে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, যোগ্যদের একটি অংশকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যার জেরে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেই আশাবাদী তিনি।
এখন অন্নপূর্ণার (Annapurna Yojana) হাঁড়িতে আসল প্রশ্ন একটাই, টাকা আসবে কবে? কারণ ধৈর্যের রাজনৈতিক পরামর্শ যতই মিলুক, বিক্ষোভকারীদের অপেক্ষার ক্যালেন্ডারে কিন্তু দিন গুনতেই হচ্ছে।


