Aaj India Desk, পশ্চিম মেদিনীপুর: রাজ্য সরকারের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা’(Annapurna Yojona) নিয়ে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টাকা না পাওয়া এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা সমস্যার অভিযোগ উঠছে। শুক্রবারও একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের পাশাপাশি পথ ও রেল অবরোধ করেন সুবিধা না পাওয়া মহিলারা। পশ্চিম মেদিনীপুরেও (Paschim Medinipur) পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে নিজের প্রশাসনিক বৈঠক ছেড়ে নীচে নেমে আসেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরে একটি নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে পৌঁছনোর পরই অন্নপূর্ণা নিয়ে কয়েকজন মহিলার প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর বৈঠক চলার সময় জেলাশাসকের দফতরের নীচে জড়ো হন বহু বঞ্চিত মহিলা। তাঁদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামলাতে দুপুর আড়াইটে নাগাদ বৈঠক মাঝপথে রেখে নীচে নেমে আসেন মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ শোনেন অগ্নিমিত্রা। মন্ত্রী বলেন, “একটু সময় দিন। সবে তো সরকার ১০০ দিন পূর্ণ করল। আপনারা আস্তে কথা বলুন, তবেই তো আপনাদের কথা শুনতে পাব। আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে চাই বলেই তো মিটিং ছেড়ে নেমে এলাম।”
বিক্ষোভকারী মহিলাদের কাছে মন্ত্রী জানতে চান, তাঁরা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের কোনও কিস্তির টাকা পেয়েছেন কি না। মহিলাদের দাবি, জুন বা জুলাই—কোনও মাসেই তাঁরা টাকা পাননি। শুধু টাকা না পাওয়াই নয়, সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁদের বারবার বিভিন্ন সরকারি দফতরে যেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
মহিলাদের অভিযোগ, এসডিও অফিসে গেলে তাঁদের পুরসভায় পাঠানো হচ্ছে। আবার পুরসভায় গেলে বলা হচ্ছে এসডিও অফিসে যেতে। ফলে একই কাজের জন্য তাঁদের বারবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের এই অভিযোগ শোনার পরই মন্ত্রী জেলাশাসককে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্য, যাতে মহিলাদের আর এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “আপনারা এসডিও এবং বিডিও অফিসে গিয়ে যাবতীয় তথ্য জমা দিন, সেখানেই সব কাগজ নেওয়া হবে। আমি আপনাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যই উদ্যোগী হয়েছি।” মন্ত্রীর আশ্বাসের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। পরে বিক্ষোভকারী মহিলারা একে একে জেলাশাসকের দফতর থেকে বেরিয়ে যান।


