27 C
Kolkata
Wednesday, February 11, 2026
spot_img

গোলপার্ক সংঘর্ষে এখনও অধরা ‘সোনা পাপ্পু’, উঠছে প্রশ্ন

স্নেহা পাল, কলকাতা : কলকাতার গোলপার্কে (Golpark) দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও তিন। কিন্তু এখনও অধরা ঘটনার মূল অভিযুক্ত ‘সোনা পাপ্পু’ ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। এই ঘটনা ঘিরে তাঁর সাথে রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ ও জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

শনিবার রাতে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ সৌগত বসু, মিন্টু ভাঞ্জা এবং প্রবীর প্রামাণিক নামে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। সৌগত ও মিন্টু কসবা থানার এলাকার বাসিন্দা এবং প্রবীর থাকেন রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি রাতে গোলপার্কের (Golpark) কাকুলিয়া রোডে সংঘর্ষে এই তিনজনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

তদন্তে নতুন সূত্রের আশা

এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের জেরা করে পলাতক সোনা পাপ্পুর অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ গোলপার্ক (Golpark) সংলগ্ন পঞ্চাননতলায় একটি ক্লাব পিকনিক চলাকালীন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপি হালদারের গোষ্ঠীর সঙ্গে সোনা পাপ্পুর দলের সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার কারণেই এই সংঘর্ষ।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১০০-১৫০ জন মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী এলাকায় তাণ্ডব চালায়। গুলিচালনা, বোমা ছোড়া ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মোটরবাইক। রাস্তায় ইট ছোড়াছুড়িও হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলির খোল ও বোমার অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় তিনটি FIR দায়ের হয়।

ফেসবুক লাইভে আত্মপক্ষ সমর্থন

এদিকে, মঙ্গলবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে সোনা পাপ্পু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে তিনি উপোস থেকে বাড়িতে মাঘী পূর্ণিমার পুজোয় যোগ দিয়েছিলেন এবং বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ আছে। তবে এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে বাড়ছে জল্পনা

তবে এই বিষয়ে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শাসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও সরকারি বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এলাকায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মূল অভিযুক্ত পলাতক থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও চাপ বাড়ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন