Aaj India Desk, কলকাতা : বিজেপির (BJP) কেন্দ্রীয় সংগঠনে এবার বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সোমবারই দলের নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণা হতে পারে। বিজেপির দলীয় সূত্রের দাবি, দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে নতুন সাংগঠনিক টিমের তালিকা তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। এই রদবদলে নতুন মুখ, তরুণ নেতৃত্ব এবং মহিলা নেত্রীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বৈঠক
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই সাংগঠনিক রদবদল ঘোষণা করা হবে।
কেন সোমবারই ঘোষণা?
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের পর রবিবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কর্মসূচি ছিল। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সংগঠনের নতুন তালিকা প্রকাশের জন্য সোমবারকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
নতুন কেন্দ্রীয় টিমে একাধিক নতুন মুখ জায়গা পেতে পারেন। তরুণ এবং মহিলা নেতৃত্বের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাই এই রদবদলের অন্যতম লক্ষ্য। সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি প্রচার ও মিডিয়া সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ফলে শুধু পদে পরিবর্তন নয়, দলের কাজের ধরনেও কিছু বদল আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের পিছনে আগামী দিনের নির্বাচনী প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী বছরের শুরু থেকেই উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ফলে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সাংগঠনিক প্রয়োজন মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় দলের দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে।
এরপর কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল?
বিজেপির (BJP) কেন্দ্রীয় সংগঠনের রদবদলের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। দলীয় সাংগঠনিক পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
সব মিলিয়ে, বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে আসন্ন পরিবর্তনকে শুধু নিয়মিত সাংগঠনিক রদবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে না। আগামী কয়েক বছরের নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য দলকে নতুন করে সাজানোর প্রস্তুতি হিসেবেই এই পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


