Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেখা গেল না কংগ্রেসের (Congress) দুই শীর্ষ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) এবং রাহুল গান্ধিকে (Rahul Gandhi)। টানা দ্বিতীয় বছর স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে তাঁদের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। বিজেপিও কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা পান। সূত্রের খবর, লালকেল্লার অনুষ্ঠানে তাঁর জন্য দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতে আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে সেখানে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে হাঁটাচলার সমস্যা হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন খাড়গে বলে কংগ্রেসের দাবি। পরিবর্তে কংগ্রেস সদর দফতরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন তিনি।
খাড়গের এই অনুপস্থিতির কারণ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা আরপি সিং বলেন, সংসদের মকর দ্বারে খাড়গেকে নিয়মিত সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। তাহলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিল না। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে, রাহুল গান্ধির বসার আসন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়া রাহুলকে সেবার দ্বিতীয় শেষ সারিতে বসানো হয়েছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল কংগ্রেস।
যদিও পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাহুল গান্ধিকে লক্ষ্য করে ওই আসন নির্ধারণ করা হয়নি। সামনের সারির কিছু আসন অলিম্পিক্সে সম্মানিত হওয়া ক্রীড়াবিদদের জন্য রাখা হয়েছিল বলেই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।
তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কোনও অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবারই প্রথম নয়। নতুন সংসদ ভবনের ভূমিপুজো ও উদ্বোধন, পাশাপাশি অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন না। আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও ওই অনুষ্ঠানগুলিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দল।
কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানটি বিজেপির কর্মসূচি হিসেবেই আয়োজিত হয়েছিল। সেই কারণে সেখানে যোগ দেয়নি তারা। এবার স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে খাড়গে ও রাহুলের অনুপস্থিতি ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।


