Aaj India Desk, কলকাতা: ২০২০ সালে বিজেপির (BJP) তৎকালীন নেতা এবং বর্তমানে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) উপর হামলার ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নাম জড়িয়ে অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (BJP Leader Abhijit Das) ওরফে ববি। ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে সরকারি ও ভেস্টেড জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি ও গাছ কাটার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। এই মামলায় অভিষেক-সহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। মামলাটি খতিয়ে দেখে পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কৃষ্ণনগর আদালত ।
মাটি কাটার অভিযোগ
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুলাই নদিয়ার কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষ এই মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে কালীগঞ্জ ব্লক এবং তার লাগোয়া মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকায় প্রায় ৩৩ হাজার বিঘা সরকারি ও ভেস্টেড জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে।
শুধু মাটি নয়, ওই সমস্ত জমিতে থাকা মূল্যবান গাছও কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীর। বাপনের অভিযোগ, এই কর্মকাণ্ডের পিছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদত রয়েছে এবং মূল মদতদাতাদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। মামলায় অভিষেক ছাড়াও কালীগঞ্জের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ, প্রাক্তন বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ-সহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাকারীর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের দাবি, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বন দফতর, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। উল্টে মামলাকারীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
সমস্ত নথি ও বক্তব্য খতিয়ে দেখার পর বিচারক তরুণ মণ্ডল পুলিশকে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই নির্দেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাপন ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য লড়াই করার পর এবার আদালতের নির্দেশে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যেই এই মামলা করা হয়েছে।
২০২০-র শমীক-হামলা নিয়ে নতুন অভিযোগ
অন্যদিকে, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবরের একটি হামলার ঘটনাকে সামনে এনে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই দিন ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে স্রোতেরপোল এলাকায় শমীক ভট্টাচার্য এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের গাড়িতে হামলা করা হয়। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল বলে দাবি করেছেন ববি। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁর অনুগামীরা ওই হামলা চালিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে অভিষেকের পাশাপাশি জাহাঙ্গির খান, সুমিত রায়, গৌতম অধিকারী, শামিম আহমেদ-সহ আরও ৭৮ জনের নাম রয়েছে।
ববি জানিয়েছেন, হামলার সময় তিনি শমীক ভট্টাচার্যের গাড়িতে ছিলেন না। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁর দাবি, এর আগে বিষ্ণুপুর থানাতেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এবার ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ১০ পাতার অভিযোগপত্র দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন করেছেন।


