নয়াদিল্লি: দেশের যুবসমাজকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি? এমনটাই দাবী, সিজেপি (CJP) প্রধান অভিজিৎ দিপকের (Abhijit Dipke)। যন্তর মন্তরে দেশকাঁপানো আন্দোলনেই থেমে যায়নি আরশোলারা। সমাজমাধ্যমে হাজারও মানুষের প্রশ্ন, তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি? এই আবহেই আন্দোলনের সিজন-২ ঘোষণা করেছেন অভিজিৎ দিপকে। বুধবার দলের তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই ফের বড় আন্দোলনে নামতে চলেছে তারা।
ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির নারাইনায় সিজেপি-র স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বৈঠক ঘিরে। দলের দাবি, শেষ মুহূর্তে বৈঠকের ভেন্যু বাতিল হয়ে যায়। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke)।
তাঁর দাবি, একটি ব্যাঙ্কোয়েট হল আগে থেকে বুক করা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আয়োজকদের জানানো হয়, সেখানে আর বৈঠক করা যাবে না। শুধু একটি ভেন্যু নয়, দিল্লির আরও কয়েকটি জায়গাতেও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি সিজেপি-র।
দিপকের অভিযোগ, “উপরমহল থেকে চাপ” দেওয়ার কথা জানিয়ে ভেন্যু মালিকরা বুকিং বাতিল করেছেন। এমনকী বৈঠক করতে দিলে পরিণতি খারাপ হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আর এখানেই থামেননি সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। বরং ভেন্যু বাতিলের ঘটনাকেই নতুন আন্দোলনের ‘ট্রিগার’ বানিয়ে ফেলেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের সমর্থকদের প্রশ্নের প্রসঙ্গ তুলে দিপকে (Abhijit Dipke) ঘোষণা করেন, ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। অর্থাৎ আগের আন্দোলনের পর এবার আরও বড় কর্মসূচির ইঙ্গিত দিচ্ছে সিজেপি (CJP) ।
দিপকের দাবি, এই ধরনের চাপ দিয়ে তাঁদের আন্দোলন থামানো যাবে না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি দেশের যুবসমাজের শক্তিকে ভয় পাচ্ছে। তাই ছোটখাটো প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক বাধা তৈরি করে আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘যতই হুমকি দিন, আমরা ভয় পাব না’! এর পাশাপাশি সিজেপি (CJP) এবার শুধু দিল্লিকেন্দ্রিক আন্দোলনে আটকে থাকতে চাইছে না। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘লিসেনিং ট্যুর’। অর্থাৎ এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের অভিযোগ, ক্ষোভ এবং মতামত শোনার পরিকল্পনা করেছে দল।
সৌরভের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ জমছে। সেই ক্ষোভের কথাই শুনতে দেশজুড়ে প্রচার চালাবে সিজেপি। ফলে একদিকে ‘যন্তর মন্তর ২.০’, অন্যদিকে দেশজুড়ে ‘লিসেনিং ট্যুর’, দলের পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা যে আরও আক্রমণাত্মক হতে চলেছে, তারই ইঙ্গিত মিলছে।
ভেন্যু বাতিলের অভিযোগ সত্যি কি না, তার উত্তর এখনও মেলেনি। বিজেপির বক্তব্যও সামনে আসেনি। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার! একটি বাতিল বৈঠককে কেন্দ্র করে সিজেপি (CJP) এখন নতুন আন্দোলনের মঞ্চ সাজাচ্ছে। প্রশ্ন এখন একটাই, ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কি সত্যিই আগের আন্দোলনের থেকেও বড় ঝড় তুলবে, নাকি ভেন্যু-বিতর্কেই আটকে থাকবে সিজেপি-র নতুন রাজনৈতিক অভিযান?


