Aaj India Desk, কলকাতা : তৃনমূল আমলে রাজ্য জুড়ে কয়লা চুরি, বালি চুরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগের পর এবার সামনে এল ধান সংগ্রহ ও পরিবহণ ব্যবস্থায়ও বড় অনিয়মের অভিযোগ। CAG রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯টি সন্দেহভাজন গাড়ির মাধ্যমে মোট ৪,২১১.৮৯ কুইন্টাল ধান রাইস মিলে পৌঁছে দেওয়ার তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সেই গাড়িগুলির তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স, যাত্রীবাহী অটো, বাস এমনকি বিলাসবহুল গাড়ির উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। কয়েকটি ক্ষেত্রে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরও পাওয়া যায়নি।
CAG-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ধান সংগ্রহের পর রাইস মিলে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত গাড়ির তথ্য সরকারি নথিতে থাকার কথা। সেই তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ১৯টি গাড়িকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ওই ১৯টি গাড়ির মাধ্যমে মোট ৪,২১১.৮৯ কুইন্টাল ধান পরিবহণ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু গাড়িগুলির প্রকৃতি ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে ধান পরিবহণের দাবির অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে CAG রিপোর্টে বলা হয়েছে।
রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, দুটি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে ১,৭৬৪.৬১ কুইন্টাল ধান পরিবহণের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ছয়টি যাত্রীবাহী অটোর মাধ্যমে ১,১৫৯.০৩ কুইন্টাল ধান পরিবহণের তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু অ্যাম্বুল্যান্স বা অটো নয়, কয়েকটি ক্ষেত্রে বাস এবং বিলাসবহুল গাড়ির তথ্যও ধান পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে CAG-এর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। CAG-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি সন্দেহভাজন গাড়ির মধ্যে ৯টির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বরই পাওয়া যায়নি। সরকারি ব্যবস্থায় ধান বিক্রির রেকর্ডের পাশাপাশি যে গাড়িতে করে ধান রাইস মিলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সেই গাড়ির নম্বরও নথিভুক্ত থাকার কথা। ফলে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত এই অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পাশাপাশি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধান পরিবহণ না করেও সরকারি অর্থ খরচ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ, নথিতে পরিবহণ দেখানো হলেও বাস্তবে সেই ধান সংশ্লিষ্ট রাইস মিলে পৌঁছেছিল কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেছে সেই রিপোর্ট। ধান সংগ্রহ ও পরিবহণ ব্যবস্থায় সরকারি নথির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের সামঞ্জস্য নিয়ে CAG রিপোর্টে তোলা এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।


