Aaj India Desk, কলকাতা : হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল কালীঘাট তৃণমূল। তবে চমক অন্য জায়গায়। সোমবার তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) ডাকে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দুই বিধায়কও। তবে কি মমতার অপমানের ঘটনায় গলছে দুই শিবিরের বরফ? ঘটনার জেরে ফের রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
বিধানসভায় তৃণমূলের প্রতিবাদ
হালিশহরের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সোমবার বিধানসভা চত্বরে তৃণমূলের বিধায়কেরা বিক্ষোভ দেখান। কর্মসূচিতে বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের প্রথম সারির নেতৃত্বরা এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে যোগদান করেন ঋতব্রত শিবিরের দুই বিধায়ক মহম্মদ তৌসিফ রহমান এবং আব্দুল খালেক মোল্লা।
জঙ্গলরাজ বলে তোপ
প্রতিবাদ সভা থেকেই কুনাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে সামিল হওয়া তৃণমূলের প্রত্যেক বিধায়কের কর্তব্য।” তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে কোন তৃণমূল বিধায়ক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন, “সারা বাংলার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা তা মনে রাখবেন।” রবিবার কর্মসূচি আয়োজনের পরেই কুণাল ঘোষ সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তৃণমূলের দল ও প্রতীকে এবং দলের আর্থিক সাহায্য নিয়ে নির্বাচিত প্রত্যেক বিধায়ক যেন এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। তাঁর কথা মেনেই ঋতব্রত শিবিরের দুই বিধায়কও এই প্রতিবাদ সভায় শামিল হন।
কী ঘটেছিল হালিশহরে?
রবিবার পুলিশ হেফাজতে মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। মমতার বিরুদ্ধে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা এবং জুতো ছোড়া হয়। এমনকি গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই সোমবার বিধানসভায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তবে তার মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দুই বিধায়ক মহম্মদ তৌসিফ রহমান এবং আব্দুল খালেক মোল্লারও এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগদান রাজনৈতিকভাবে বিশেষ নজর কেড়েছে।


