গতকাল রাজ্য বাজেট (Budget) পেশে একাধিক ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। বাজেটে জানানো হয়েছে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক পুলিশ, পার্শ্বশিক্ষক ও আশাকর্মীদের ভাতা বা বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে বেকার যুবকদের ১,৫০০ টাকা মাসিক ভাতা। তবে এই সমস্ত ভাতার ঘোষণা করা হলেও ভোটমুখী বাংলার জনমানসে তার প্রভাব খুব একটা ইতিবাচক হয়নি।
মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবকদের জন্য মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে বলে বাজেটে (Budget) ঘোষণা করা হয়। ‘বাংলার যুব সাথী’ নামে এই প্রকল্পটি আগামী ১৫ অগস্ট থেকে চালু করার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় বেকার যুবকদের বড় অংশ। অনেকের বক্তব্য, “১,৫০০ টাকায় সংসার চলে না। ভাতা নয় বরং স্থায়ী চাকরি দরকার।” কারও মতে, এই ধরনের ভাতা দীর্ঘমেয়াদে যুবসমাজকে নির্ভরশীল করে তুলতে পারে।
ভাষাবিদ পবিত্র সরকারের মতে, এই সময় নির্বাচনকে উপেক্ষা করা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে নয়, ভোটের পরে এই ঘোষণা এলে একে নিছক জনমুখী নীতিগত সিদ্ধান্ত বলা যেত। শিক্ষাব্যবস্থা যখন নিয়োগ দুর্নীতি, শিক্ষক-সংকট ও অনিশ্চয়তায় জর্জরিত, তখন অর্থনৈতিক সহায়তা তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কাঠামোগত সংকট না মেটালে তা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হতে পারে না।
একই সঙ্গে বাজেটের পরদিনই ফের আন্দোলনে নেমেছেন আশাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ন্যায্য পাওনা ও স্থায়ী সুবিধার বদলে ১,০০০ টাকা ভাতা বাড়িয়ে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশাকর্মীদের একাংশ প্রকাশ্যে এই ভাতা বৃদ্ধিকে ‘ভিক্ষা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতার অঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের একাংশ মহিলা খুশি হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে এই স্বস্তির পরিসর সীমিত বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
এই প্রেক্ষিতেই তীব্র সমালোচনায় নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভাতা ঘোষণার মাধ্যমে সরকার কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে যে তারা চাকরি দিতে অক্ষম। তিনি বলেন, রাজ্যে বিপুল সংখ্যক বেকার ও পরিযায়ী শ্রমিক থাকলেও স্থায়ী কর্মসংস্থানের কোনও রূপরেখা বাজেটে নেই।
শুভেন্দু অধিকারীর আরও বক্তব্য, যেহেতু এটি ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট, যার মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হবে। তাই অগস্ট থেকে প্রকল্প চালুর ঘোষণা করলেও বাস্তবে তা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, পুরনো প্রকল্পের নাম বদলে নতুন প্রকল্প চালু করে একই নীতির পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা ঘোষণা শুধুমাত্র আর্থিক নয়, স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প যে ভূমিকা নিয়েছিল, এবার সেই মডেলই যুবসমাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পকে।


