Aaj India Desk, কলকাতা : হালিশহর থানার (Halishahar Incident) হেফাজতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিজেপি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে সেসব এড়িয়ে গিয়ে এবার গোটা ঘটনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হালিশহর সফরকেই দায়ী করে পাল্টা আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
পুলিশকে না জানিয়েই সফর
রবিবার ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস নিরাপত্তা পান এবং তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবু হালিশহরে (Halishahar Incident) যাওয়ার আগে পুলিশকে তিনি কোনও তথ্য দেননি। শুভেন্দুর বক্তব্য, পূর্বে জানানো না হলেও পুলিশ পরে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তাঁর দাবি, ডিসির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মৃতের পরিবার প্রশাসন ও পুলিশের উপর আস্থা রেখে ঘটনার সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে যাওয়া ও বিষয়টিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি নিহতের পরিবারও ভালভাবে নেয়নি বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
কাদা-জুতো ছোড়া নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান এবং কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পতাকা বা পরিচিত দলীয় মুখ দেখা যায়নি। তাই ঘটনাটিকে তিনি স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কটাক্ষও করেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য, এতদিন ধরে চুরি করার পর ‘চোর’ স্লোগান শুনতে না চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারেন।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি। অগ্নিমিত্রা পাল এবং শমীক ভট্টাচার্য ঘটনার পরেই এই আচরণের প্রকাশ্যে নিন্দা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা বা ক্ষোভ থাকলেও কোনও রাজনৈতিক নেতার কনভয় ঘিরে এ ধরনের বিক্ষোভ কাম্য নয়। ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
একদিকে বিজেপি নেতাদের প্রতিবাদ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আক্রমন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। তবে কনভয়ে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার উত্তর মিলবে তদন্তের পরেই।


