32.8 C
Kolkata
Sunday, August 9, 2026
spot_img

আজ ২ মিনিট নীরবতা পালন করবে রাজ্য, কিন্তু আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে কি কাটবে অন্ধকার? 

Aaj India Desk, কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের (RG Kar Rape Murder Case) ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে রবিবার। এই দিনটিকে স্মরণ করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সকাল ১১টায় প্রদীপ জ্বালিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। শনিবার এই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রবিবার, ৯ অগস্ট সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২ মিনিট পর্যন্ত আরজি করের নিহত চিকিৎসকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করতে হবে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের (Sharadwat Mukherjee) সঙ্গে বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছিল, তা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুবিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ—সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। দেশ ছাড়িয়ে সেই আন্দোলনের প্রভাব দেখা গিয়েছিল বিদেশেও। দেখতে দেখতে সেই ঘটনার দুই বছর পার হয়ে গেল। এর মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলও হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময়ে এই ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার। নতুন সরকারের আমলে এই প্রথম সরকারি ভাবে আরজি করের নিহত চিকিৎসকের স্মরণে এমন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নিহত চিকিৎসকের মা বর্তমানে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। তাঁর উদ্যোগেও রবিবার একটি বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে তাঁর মেয়ের স্মৃতিতে তৈরি ট্রাস্টের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হবে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। ওই অনুষ্ঠান থেকেই ট্রাস্টের আগামী দিনের সমাজসেবামূলক কাজের পরিকল্পনাও জানানো হতে পারে।

অন্যদিকে, আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত নিয়েও নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ প্রথমে তদন্ত করে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে দেখায়। পরে শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে তদন্তের শুরু থেকেই পুলিশের পাশাপাশি সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল নিহত চিকিৎসকের পরিবার। পরিবারের আবেদনের পর হাইকোর্ট নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর সিবিআই একটি নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করে।

এই পরিস্থিতিতে এবার আলাদা করে তদন্ত শুরু করতে চলেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরও। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে এবং তার পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিহত চিকিৎসকের শিক্ষক ও অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। এই বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট পরে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলেও বদল এসেছে। আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন অফিসার সন্দীপনি গর্গকে। পুরো দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সিবিআইয়ের যুগ্ম ডিরেক্টর অনুরাগ কুমার। ইতিমধ্যেই নতুন দলটি আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাস্থল এবং পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে ফের তদন্ত করেছে। শিয়ালদহ আদালতেও নতুন স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন তদন্ত নিয়েও আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সিবিআই। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই রিপোর্ট দেখে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নতুন তদন্তকারী দলও আগের তদন্তের প্রভাব থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। ফলে তদন্ত কোন দিকে এগোবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সিবিআইয়ের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে নিহত চিকিৎসকের পরিবার। পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে তাঁদের মেয়ে যে চারজন জুনিয়র চিকিৎসকের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। পরিবারের আইনজীবীর অভিযোগ, নিহত চিকিৎসক শেষবার যে জুনিয়র চিকিৎসক সৌমিত্র রায়ের সঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন, তাঁর বক্তব্যও সিবিআই যথাযথভাবে রেকর্ড করেনি।

পরিবারের আইনজীবী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য সামনে আনতে ওই চার জুনিয়র চিকিৎসককে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং প্রয়োজন হলে তাঁদের গ্রেফতার করা উচিত।শুনানির সময় এই বিষয়গুলি নিয়েই সিবিআইকে একাধিক প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানতে চান, ওই চার জুনিয়র চিকিৎসকের বক্তব্য আদৌ নেওয়া হয়েছিল কি না। পাশাপাশি, ঘটনার পরের দিন সকালে নিহত চিকিৎসকের মাকে হাসপাতালে আসার জন্য ঠিক কখন ফোন করা হয়েছিল, সেই বিষয়েও সিবিআইয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ফলে আরজি কর কাণ্ডের দুই বছর পূর্তিতে একদিকে যখন রাজ্যজুড়ে নীরবতা পালনের মাধ্যমে নিহত চিকিৎসককে স্মরণ করা হবে, অন্যদিকে তখনও তদন্তের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে আদালত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন