স্নেহা পাল, কলকাতা : নিজেদের দাবি নিয়ে আজ ফের রাস্তায় নেমেছেন আশাকর্মীরা (Asha Worker)। সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনের সামনেই চলছে তাদের আন্দোলন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো ও কাজের স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন আশা কর্মীরা। কর্মবিরতির মধ্যেই রাজ্য বাজেটে তাঁদের জন্য একাধিক ঘোষণা করা হয়। তবে সেই ঘোষণাতে আশাকর্মীদের ক্ষোভ যে মেটেনি তা স্পষ্ট।
গতকাল রাজ্য বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে আশা কর্মীরা বর্ধিত মাসিক ভাতা পাবেন। পাশাপাশি, সরকারি অধীনে থাকা অন্যান্য মহিলা কর্মীদের মতোই ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা এবার থেকে আশা কর্মীদেরও দেওয়া হবে। কর্মরত অবস্থায় কোনও আশা কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এই খাতে আগামী অর্থবর্ষে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আশা কর্মীদের বক্তব্য, এই ঘোষণায় তাঁদের মূল দাবি পূরণ হয়নি। তাঁদের দাবি ছিল ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা মাসিক মজুরি, বুধবারের টাকা কাটা বন্ধ করা, তাঁদেরকে সরকারি ছুটির আওতায় আনা এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ।
কর্মীদের অভিযোগ, কর্মবিরতির জেরে বিভিন্ন ব্লকে তাঁদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এখনও বকেয়া টাকা মেটানো হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। আন্দোলনরত আশা কর্মীদের দাবি, কেন্দ্র সরকারের ঘোষিত ৩,৫০০ টাকার প্যাকেজ এখনও রাজ্যে কার্যকর হয়নি। গত মাসে স্বাস্থ্য ভবনে বৈঠকের সময় দ্রুত সেই ফরম্যাট দেওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সেটি অধরা। এছাড়াও নয় মাসের পারফরম্যান্স লিংকড ইনসেনটিভ (PLI) এখনও বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
আশা কর্মীদের বক্তব্য, ভাতা বৃদ্ধির এই ঘোষণা তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। হাজার টাকা বাড়ানোকে তাঁরা কোনও বাস্তব সমাধান নয়, বরং সাময়িক স্বস্তির চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। পাশাপাশি এই হাজার টাকাকে ‘ভিক্ষা’ বলেও উল্লেখ করেন একজন আশাকর্মী। আশা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের আন্দোলন প্রশমনের উদ্দেশ্যেই রাজ্য সরকারের এই ঘোষণা করা হয়েছে।
” যারা বাড়ি বসে আছে তাঁদের ভাতা বাড়ানো হল। আমরা পথে নেমে কাজ করছি। আমাদের এই ১০০০ টাকার ভিক্ষা চাই না। কর্মবিরতি চলবে” এমনটাই জানিয়েছেন আশা কর্মীরা।
এরই মধ্যে স্বাস্থ্যভবনে বৈঠকে গিয়েছেন কয়েকজন আশাকর্মী। বাকিরা সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনের সামনে বিক্ষোভ অবস্থানে। ঘোষিত সুবিধার মধ্যে বেতন কাঠামো ও অন্যান্য দাবিতে কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আশা কর্মীরা।


