কলকাতা: রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা মেনে একাধিক মসজিদ থেকে মাইক (Mosque loudspeakers) খোলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংখ্যালঘু জনপ্রতিনিধিদের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছেও নালিশ জানানো হয়েছে বলে দাবি।
এবার সেই বিতর্কের জল আদালত পর্যন্ত গড়ানোর ইঙ্গিত মিলল। মসজিদ থেকে মাইক খোলা প্রসঙ্গে সরাসরি হাই কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। বিরোধীদলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানকে পাশে নিয়ে ঋতব্রত বলেন, “আগামী শুক্রবারের মধ্যে আমরা হাই কোর্টে যাচ্ছি।” ফলে মসজিদের মাইক নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি শুরু হতে চলেছে আইনি লড়াইও।
পুরনো নির্দেশিকা ঘিরেই বিতর্ক
রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের শব্দদূষণ সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশিকাকে সামনে রেখেই বিভিন্ন জায়গায় মাইক (Mosque loudspeakers) খোলার পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন এবং সেই নিয়ম কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কিন্তু বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বাস্তবে মসজিদগুলিকেই বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে না দেখে এর মধ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মাত্রা খুঁজছেন তাঁরা।
শাহের কাছে নালিশ, এবার আদালতের দরজা
মসজিদ থেকে মাইক (Mosque loudspeakers) খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু জনপ্রতিনিধিদের একাংশ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি। সেই আবহেই এবার বিরোধী শিবির তথা ‘আসল তৃণমূলের’ হাই কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে প্রশাসনের পদক্ষেপ আদৌ নিয়মবহির্ভূত কি না, নাকি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আর বিরোধী শিবিরের হাই কোর্টে যাওয়ার ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মসজিদের মাইক নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল প্রশাসনিক নির্দেশিকা ঘিরে, তা এবার পৌঁছতে চলেছে রাজনীতির ময়দান পেরিয়ে আদালতের চৌহদ্দিতে।


